২০ বছর চাকরি জীবনে বেতন ভাতা ৬৫  লাখ – দৃশ্যমান অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা! 


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : মার্চ ১, ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ন /
২০ বছর চাকরি জীবনে বেতন ভাতা ৬৫  লাখ – দৃশ্যমান অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা! 
* শহরের মুনজিতপুরে দুইতলা আলিশান বাড়ি তৈরি।
* কাটিয়া দুইটি দোকানসহ একতলা বাড়িক্রয়।
* সুলতানপুরে ৫ শতক জমি ক্রয়।
* ঘুষ সিন্ডিকেট চালায় দলাল মেহেদী ও সুরুজ।
* প্রশাসনের নিরবতা প্রশ্নবিদ্ধ।
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক  : সাতক্ষীরা জেলার শীর্ষ দুর্নীতিবাজ নায়েব আশরাফুউজ্জামান।  পিতা ছিলেন শ্যামনগর উপজেলার  রমজানগর ইউনিয়নের পাথরখোলা গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক। কৃষি কাজ করে দিন আনা দিন খাওয়ায় কোন রকমে চলে সংসার। ২০০৫ সালে ভূমি অফিসে  চাকরি মেলে কৃষকের ছেলে আশরাফুউজ্জামানের  তারপর থেকে পিছে ফিরে আর থাকাতে হয়নি।  বর্তমানে সে শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নে ভূমি সহকারী কর্মকতা হিসাবে দায়িত্বে আছে। ঘুষের টাকায় লালে লাল হয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছে নায়েব আশরাফুরউজ্জামান।
সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুরে ৩ কোটি টাকা মূল্যে আলিশান বাড়ি তৈরি , কাটিয়ায় ২ কোটি টাকা মূল্য ২টি দোকানসহ একতলা বাড়ি  ক্রয় করেছে। শুশুরের নামে শহরের সুলতানপুরে ৭০ লাখ টাকায় ক্রয় করেছে ৫ শতক জমির আমবাগান। তাছাড়া  গ্রামে ক্রয় করেছে কয়েক একর কৃষি জমিসহ পরিবারের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার ডিপোজিট। ২০ বছরের চাকরি জীবনে সর্বসাকূল্যে ৬৫ লক্ষ টাকা বেতন ভাতা উত্তোলন করলেও নায়েব আশরাফুউজ্জামানের দৃশ্যমান সম্পদের বাজার মূল্য ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা।  জনমনে প্রশ্ন একজন কর্মচারীর অবৈধ আয়বহিভূর্ত অবৈধ সম্পদের রহস্য কোথায়?
 প্রসাশনের নিরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী ভূমি কমিশনারের নাকেয় ডগায় নায়েব আশরাফুউজ্জামানের ঘুষ বাণিজ্য সুশীল সমাজ ভিন্নরুপে দেখছে।
সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়,
নায়েব আশরাফুউজ্জামান বর্তমানে আটুলিয়া  অঞ্জলের আতঙ্ক। ঘুষ ছাড়া মেলে না আটুলিয়া ভূমি অফিসে সেবা। নামজারি, খাজনা দাখিলা, খাসজমি বন্দোবস্তায় রয়েছে তার দালাল সিন্ডিকেট।  সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তা পাওয়ায়ে দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। নওয়াবেকী বাজারে পেরিফেরিভুক্ত জমি বন্দোবস্তা দেওয়ার নামে দোকান প্রতি প্লট বিক্রি করছেন ৪ থকে ৫ লাখ টাকা দরে।
 নায়েব আশরাফুউজ্জামানের ঘুষ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারী দুই দালাল মেহেদী হাসান ও সুরুজের নাম অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। বিভিন্ন কাজের জন্য অবৈধ টাকা  সরাসরি না নিয়ে দালাল মেহেদী ও সুরুজের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করে  নায়েব আশরাফুউজ্জামান।  মেহেদি হাসান ডিসি অফিসের একসময় ওমেদারি কাজ  করতো। পরবর্তীতে আউটসোর্সিং  চাকরি পায় আটুলিয়া ভূমি অফিসে। সেখান থেকে নায়েব আশরাফুউজ্জামানের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে। আশরাফুউজ্জামানের বিশ্বস্ত হওয়ায় বড় বড়  ঘুষ লেনদেন করাতো মেহেদীর হাত ধরে । অপরদিকে আরেক দালাল সুরুজ নায়েব আশরাফুউজ্জামানের ভাগিনা সে ছোট অংঙ্কের লেনদেনগুলো তার মাধ্যমে হত।
আটুলিয়া ইউনিয়নে খোলপেটুয়া নদীর চর দখলকে ঘিরে গড়ে তুলেছে সক্রিয় প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে তার আপন ভাগিনা সুরুজ।  অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো সরকারি নিলাম, বৈধ বন্দোবস্ত বা লিখিত অনুমোদনের প্রমাণ দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নায়েবের ‘বিশ্বস্ত দালাল চক্র’ কোন কাজ করে না।  এই চক্রের সদস্যরা প্লট নির্ধারণ, দখল বুঝিয়ে দেওয়া এবং লেনদেনের মধ্যস্থতা করেন। অভিযোগ রয়েছে, মৌখিক প্রতিশ্রুতি ও অনানুষ্ঠানিক কাগজপত্রের মাধ্যমে কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে।
ভুক্তভোগী আটুলিয়ার সাবেক মেম্বার আবুল বাশার বলেন, আমার থেকে দোকান বরাদ্দের নামে তিন লাখ টাকা নিয়েছে। আমি নিজে লাল শপিং ব্যাগে আটুলিয়া ভূমি অফিসে নায়েবর হাতে টাকা দিয়েছি। এখন দোকানঘর দেয়না টাকাও দেয়না। টাকা ফেরত চাইলে হুমকি ভয়ভীতি দেখায়।  শ্যামনগরের সহকারী ভূমি কমিশনার সাথে নায়েবের যোগসাজশ রয়েছে।
নায়েব আশরাফুউজ্জামান ওপর মহলে টাকা দিয়ে সবসময় ভাল জায়গায় পোষ্টিং নেয়। সে  নিজে মুখে বলে আমি টাকা সবাইকে ভাগ দিই আমাকে কেউ কিছু  করতে পারবে না।
নাগরিক নেতা অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, একজন ভূমি অফিসের কর্মচারী যার পিতা একজন কৃষক সে শহরে  বিশালবহুল ২ টি বাড়ি ক্রয় করে কিভাবে। সে আলাউদ্দীনের আর্শ্চয প্রদীপ পেয়েছে। ভূমি অফিসের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা কি ঘুমিয়ে থাকে তাদের কাজ টা কি।একজন নায়েব রাতারাতি কোটিপতি বনে যায় তারা জানে না। জনসম্মুখে ঘুষখোর নায়েব আশরাফুউজ্জামানের শাস্তি দেওয়া হোক।সকল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হোক।
নায়েব আশরাফুউজ্জামানের বিষয়ে শ্যামনগর সহকারী ভূমি কমিশনারকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি  রিসিভ করেনি। যার ফলে আঙ্গুল তুলেছে ভুক্তভোগীরা সহকারী ভূমি কমিশনারের দিকে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক  আফরোজা আক্তার  বলেন, আটুলিয়া নায়েব আশরাফুউজ্জামানের বিষয়ে শুনেছি। সে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে আমরা আইনগত পদক্ষেপ নিব তার বিরুদ্ধে দ্রুত।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নায়েব আশরাফুজ্জামানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের নীরবতা, তদন্তের দাবি অভিযোগ উঠলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো তদন্ত শুরু হয়নি বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে একাধিক ভুক্তভেগীসহ সাতক্ষীরার সুশীল নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।