নিজস্ব প্রতিবেদক:ভোমরা স্থল বন্দর-এ শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে এক সিএন্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিএন্ডএফ এজেন্ট আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত শুল্ক পরিশোধ না করে কাগজপত্রে অসঙ্গতির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করার অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আমদানিকৃত পণ্যের ঘোষণাপত্রে অসামঞ্জস্য ও শুল্ক নির্ধারণে গরমিল লক্ষ্য করা গেলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরবর্তীতে প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর মামলা দায়ের করে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয় মহলে গুঞ্জন উঠেছে, অভিযুক্ত আব্দুস সবুরকে রক্ষায় বন্দরের এক রাজস্ব কর্মকর্তা—মিজানুর রহমান—সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ ও তদবিরের মাধ্যমে মামলার অগ্রগতি প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া, এক সাংবাদিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সংবাদ পরিবেশনের আড়ালে তিনি পক্ষাবলম্বনের চেষ্টা করছেন। যদিও অভিযুক্ত সাংবাদিকের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মেলেনি।
ভোমরা বন্দরের এক ব্যবসায়ী মিজান বলেন, সিএন্ডএফ এজেন্ট সবুর এর আগেও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ধার পড়েছিল আইনের ফাঁক ফোঁকরে বেরিয়ে গেছে। শুল্ক ফাঁক দিয়ে সে রাতারাতি কোটিপতি হয়েছে। কিন্তু কাস্টমসের এক কর্মকর্তা সবুরকে বাঁচানোর জন্য জোর তদবির চালাচ্ছে।
আরেক ব্যবসায়ী হাড়দ্দার মন্টু হাজী বলেন, সিএন্ডএফ এজেন্ট সবুর শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করে আসছে দীর্ঘবছর। এর আগে সবুর অনেকবার ধরাও পড়েচে। গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আটকও হয়েছে। সবুর এখন কয়েককোটি টাকার মালিক। আলিশান বাড়ি গাড়ি জমি জমার শেষ নেই।
সাতক্ষীরা রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি যার ফলে বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল বলছে, শুল্ক ফাঁকি বা রাজস্ব অনিয়মের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। তাদের মতে, প্রভাব-প্রতিপত্তি নির্বিশেষে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
আপনার মতামত লিখুন :