কৃষকের ছেলে নায়েব আশরাফুউজ্জামানের শহরে ৪ কোটি টাকার ২ টি বাড়িসহ অঢেল সম্পদের পাহাড়!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ন /
কৃষকের ছেলে নায়েব আশরাফুউজ্জামানের শহরে ৪ কোটি টাকার ২ টি বাড়িসহ অঢেল সম্পদের পাহাড়!

নিজস্ব প্রতিবেদক :‎ পিতা ছিলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার  রমজানগর ইউনিয়নের পাথরখোলা গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক। কৃষি কাজ করে দিন আনা দিন খাওয়ায় কোন রকমে চলে সংসার। ২০০৫ সালে ভূমি অফিসে  চাকরি মেলে কৃষকের ছেলে আশরাফুউজ্জামানের  তারপর থেকে পিছে ফিরে আর থাকাতে হয়নি। বলছি সাতক্ষীরা জেলার সেরা  দুর্নীতিবাজ ভূমি নায়েব আশরাফুউজ্জামানের কথা। বর্তমানে সে শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নে ভূমি সহকারী কর্মকতা হিসাবে দায়িত্বে আছে।‎ঘুষের টাকায় অবৈধ সম্পদে লালে লাল হয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছে নায়েব আশরাফুরউজ্জামান। সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর ও কাটিয়ায় ক্রয় করেছে প্রায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের ২ টি বাড়ি। শুশুরের নামে শহরের সুলতানপুরে ক্রয় করেছে ৫ শতক জমির ৫০-৬০ লক্ষ টাকা মূল্যে আমবাগান। তাছাড়া  গ্রামে ক্রয় করেছে কয়েক একর কৃষি জমিসহ পরিবারের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে লক্ষ লক্ষ টাকার ডিপোজিট। ২১ বছরের চাকরি জীবনে সর্বসাকূল্যে ৫০-৬০ লক্ষ টাকা বেতন ভাতা উত্তোলন করলেও নায়েব আশরাফুউজ্জামানের দৃশ্যমান সম্পদের বাজার মূল্য ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা।  জনমনে প্রশ্ন একজন কর্মচারীর বিশাল অবৈধ সম্পদের রহস্য কোথায়?সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, নায়েব আশরাফুউজ্জামান বর্তমানে আটুলিয়া  অঞ্জলের আতঙ্ক। ঘুষ ছাড়া মেলে না আটুলিয়া ভূমি অফিসে সেবা। নামজারি খাজনা দাখিলা খাসজমি বন্দোবস্তায় রয়েছে তার দালাল সিন্ডিকেট।  সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তা পাওয়ায়ে দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।নওয়াবেঁকী বাজারে পেরিফেরিভুক্ত জমি বন্দোবস্তা দেওয়ার নামে দোকান প্রতি প্লট বিক্রি করছেন ৪থকে ৫ লাখ টাকা দরে।আটুলিয়া ইউনিয়নে খোলপেটুয়া নদীর চর দখলকে ঘিরে গড়ে তুলেছে সক্রিয় প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট।নদীর চরে চলছে ‘প্লট বাণিজ্য’। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো সরকারি নিলাম, বৈধ বন্দোবস্ত বা লিখিত অনুমোদনের প্রমাণ দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।‎স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নায়েবের আশপাশে একটি ‘বিশ্বস্ত দালাল চক্র’ সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা প্লট নির্ধারণ, দখল বুঝিয়ে দেওয়া এবং লেনদেনের মধ্যস্থতা করেন। অভিযোগ রয়েছে, মৌখিক প্রতিশ্রুতি ও অনানুষ্ঠানিক কাগজপত্রের মাধ্যমে কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন,সরকারি জমি রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তারাই যদি বিক্রি করে দেন— তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আমরা প্রতিবাদ করেও ফল পাচ্ছি না।” টাকা ছাড়া নায়েব আশরাফুউজ্জামান কোন সেবা দেয় না। ওপর মহলে টাকা দিয়ে সবসময় ভাল জায়গায় পোষ্টিং নেয়।নাগরিক নেতা অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, একজন ভূমি অফিসের কর্মচারী যার পিতা একজন কৃষক সে শহরে  বিশালবহুল ২ টি বাড়ি ক্রয় করে কিভাবে। সে আলাউদ্দীনের আর্শ্চয প্রদীপ পেয়েছে। ভূমি অফিসের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা কি ঘুমিয়ে থাকে তাদের কাজ টা কি।একজন নায়েব রাতারাতি কোটিপতি বনে যায় তারা জানে না। জনসম্মুখে ঘুষখোর নায়েব আশরাফুউজ্জামানের শাস্তি দেওয়া হোক।সকল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হোক।‎শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আটুলিয়া নায়েব আশরাফুউজ্জামানের বিষয়ে শুনেছি। সে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে আমরা আইনগত পদক্ষেপ নিব তার বিরুদ্ধে দ্রুত।‎প্রশাসনের নীরবতা, তদন্তের দাবি অভিযোগ উঠলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো তদন্ত শুরু হয়নি বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে একাধিক ভুক্তভেগীসহ সাতক্ষীরার সুশীল নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত নায়েব আশরাফুজ্জামানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ পরে কথা হয়।তিনি বলেন আপনারা আমার নিউজ করে কি করবেন আমার কিছু করতে পারবেন না আমার  এসিল্যান্ড স্যার আছে।এ বিষয়ে শ্যামনগর  সহকারী ভূমি কমিশনার এর সাথে যোগাযোগ করলে ফোনে রিং বাজলেও পরবর্তীতে ফোন বন্ধ করে দেন।