নায়েব আশরাফুজ্জামানের ঘুষের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ কারী মেহেদী ও সুরুজ বহাল তবিয়তে!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২৬, ২:২৩ পূর্বাহ্ন /
নায়েব আশরাফুজ্জামানের ঘুষের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ কারী মেহেদী ও সুরুজ বহাল তবিয়তে!

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলার আলোচিত দুর্নীতিবাজ নায়েব আশরাফুউজ্জামানের ঘুষ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারী দুই দালাল মেহেদী হাসান ও সুরুজের নাম অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। বিভিন্ন কাজের জন্য অবৈধ টাকা  সরাসরি না নিয়ে দালাল মেহেদী ও সুরুজের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করে  নায়েব আশরাফুজ্জামান।  মেহেদি হাসান ডিসি অফিসের একসময় ওমেদারি কাজ  করতো। পরবর্তীতে আউটসোর্সিং  চাকরি পায় আটুলিয়া ভূমি অফিসে। সেখান থেকে নায়েব আশরাফুজ্জামানের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে। আশরাফুজ্জামানের বিশ্বস্ত হওয়ায় বড় বড়  ঘুষ লেনদেন করাতো মেহেদীর হাত ধরে । অপরদিকে আরেক দালাল সুরুজ নায়েব আশরাফুজ্জামানের ভাগিনা সে ছোট অংঙ্কের লেনদেনগুলো তার মাধ্যমে হত।ঘুষ সিন্ডিকেটের হোতা মেহেদী ও সুরুজ এখন বহাল তবিয়তে নায়েব আশরাফুজ্জামানের ঘুষ লেনদেন চালিয়ে  যাচ্ছে । মেহেদী বর্তমানে ডিসি অফিসের স্টাফ পরিচয়ে দিয়ে আসছে বিভিন্ন অফিসে। নায়েব আশরাফুজ্জামানের অন্যায় অনিয়মকে ধামাচাপার দেওয়ার  টেন্ডার নিয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমেে নায়েব আশরাফুউজ্জামানের অবৈধ সম্পদের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছে।মেহেদী জনসম্মুখে বলে বেড়াচ্ছে নায়েব আশরাফুজ্জামানের পক্ষে শ্যামনগর সহকারী ভূমি কমিশনার আছে তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না।তাছাড়া নায়েব আশরাফুউজ্জামান ওপর মহলকে ঘুষের টাকা ভাগ দিয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিবে না প্রশাসন। নিউজ করলেও কোন পদক্ষেপ নেবে না প্রশাসন।‎উল্লেখ্য, সাতক্ষীরায়  কৃষকের ছেলে শ্যামনগরের আটুলিয়ার নায়েব আশরাফুজ্জামানের অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছে। ঘুষখোর নায়েব আশরাফুজ্জামান অবৈধ সম্পদ বাঁচাতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে ইতিমধ্যো ।  নায়েব আশরাফুজ্জামান নওয়াবেকী বাজারে দোকান বরাদ্দের নামে ৩ লাখ  টাকা হাতিয়ে নেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল বাশার থেকে। এই ঘটনা গণমাধ্যমে কথাপোকথন ভাইরাল হলে  মেহেদীর নির্দেশে রাতারাতি  ভুক্তভোগী আবুল বাশারকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করেছে  নায়েব আশরাফুজ্জামান যেটা চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি করেছে।  ২০০৫ সালে ভূমি অফিসে চাকরিতে যোগদান করে নায়েব আশরাফুজ্জামান।  ২০ বছরের চাকরি জীবনে ৬০ লক্ষ টাকার মত সরকারি বেতন ভাতা উত্তোলন করলেও তার  দৃশ্যমান সম্পদের পরিমাণ  ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার। আর অদৃশ্য সম্পদের পরিমাণ সীমাহীন।তার সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুরে দুইতলা আলিশান বাড়ি তৈরি করেছে। যার বাজার মূল্য ২ কোটি টাকা। শহরের কাটিয়া দুইটি দোকানসহ একতলা বাড়িক্রয় করেছে যার বাজারমূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ  টাকা। সুলতানপুরে শুশুরের নামে ৫ শতক জমিসহ আম বাগান ক্রয় করেছে যার বাজার মূল্য ৫০ লাখ টাকা।তাছাড়া  রমজাননগর ইউনিয়নের পাথরখোলা  গ্রামে কয়েক একর কৃষিজমি ক্রয় করেছে। তাছাড়া স্ত্রী নামের রয়েছে কয়েকটি ব্যাংকে লক্ষ লক্ষ টাকার  ডিপোজিট। একজন কৃষক পিতার ছেলে ভূমি অফিসে চাকরি পেয়ে কি এমন আলাউদ্দীনের চেরাগ পেলেন সাতক্ষীরায় হাটে মোড়ে সমালোচনার ঝড় বইসে।‎নায়েব আশরাফুজ্জামানের ঘুষ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারীর অন্যতম সিপাহশালা সুরুজকে ফোন দিলে তিনি বলেন আমি একসময় নায়েব আশরাফুজ্জামানের  সাথে ছিলাম তিনি আমার মাম হন। তার অনেক বিষয়ে লেনদেন আমার হাতে হয়েছে এটা সত্য। এখন আমি আর তার সাথে নেই। ঘুষ লেনদেন বিষয়ে প্রশ্ন করলে সুরুজ বলেন, ভূমি অফিসে কি হয় আপনারা তো জানেন। নায়েবদের কর্মকান্ড  কি কিভাবে টাকা নেয় আমি এবিষয়ে কিছু আমি বলতে চাই না।‎ঘুষ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারী মূলহোতা ডিসি অফিসের স্টাফ পরিচয়দানকারী মেহেদী হাসান বলেন, নায়েব আশরাফুজ্জামানের হাত অনেক লম্বা। তার নামে নিউজ করে কিছু করতে পারবেন না। যে কতৃপক্ষ নায়েব আশরাফুউজ্জামানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে তাদের সাথে আশরাফুজ্জামানের ভাল সম্পর্ক। আপনি যা খুশি করেন নায়েব আশরাফুউজ্জামানের নামে যারা নিউজ করেছে কোন সাংবাদিককে ছাড় দেওয়া হবে না।সাতক্ষীরার নাগরিক নেতা আবুল হোসেন বলেন, নাায়েব আশরাফুজ্জামান মহাদুর্নীতিবাজ। সে সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর বাসা থেকে প্রতিদিন নিজস্ব প্রাইভেটকারযোগে  ৭০ কিলোমিটার দূরে অফিস করে। সে যে বেতন পায় সরকারি স্কেল অনুযায়ী তার প্রাইভেটকারের তেল খরচের পয়সা উঠে না। এত টাকা সে পায় কোথা থেকে। একজন কৃষকের ছেলে ২০ বছর  চাকরি জীবনে শহরে ২টি আলিশান বাড়ি তৈরি করে, কয়েক একর কৃষি জমি ক্রয় করে ব্যাংক ব্যালেন্স করে আর প্রশাসন ঘুমিয়ে থাকে।  এই দুর্নীতিবাজকে জনসম্মুখে বিচার করতে হবে এর দেখে যেন অনান্য দুর্নীতিবাজদের শিক্ষা হয়।‎দুর্নীতিবাজ আটুলিয়ার নায়েব আশরাফুজ্জামানের ব্যবহৃত ফোনে একাধিকবার ফোনদিলে তিনি রিসিভ করেনি। হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দিলেও তিনি উত্তর দেয়নি যার ফলে বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিস আফরোজা আক্তার বলেন, নায়েব আশরাফুজ্জামানের দুর্নীতি অঢেল সম্পদের বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ দেখেছি। আমরা তদন্ত করে নায়েব আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিব।