নাকের পলিপাসে এসিড প্রয়োগে তরুণের মৃত্যু: ভুয়া ডিগ্রিধারী আমিরুলের বিরুদ্ধে ১৮ বছরের প্রতারণার অভিযোগ!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ন /
নাকের পলিপাসে এসিড প্রয়োগে তরুণের মৃত্যু: ভুয়া ডিগ্রিধারী আমিরুলের বিরুদ্ধে ১৮ বছরের প্রতারণার অভিযোগ!

বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক:ভুয়া ডিগ্রি ও জাল নথি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগের মধ্যেই এবার সামনে এসেছে প্রাণহানির গুরুতর অভিযোগ। দেবহাটা উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের হাড়ৎদা গ্রামের শামসুল হকের ছেলে মুসা করিম দুই বছর আগে কথিত চিকিৎসক আমিরুল ইসলামের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।অভিযোগ অনুযায়ী, নাকের পলিপাস অপসারণের নামে রুগীর নাকের ভেতরে এসিড প্রয়োগ করা হয়। এতে এসিড শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু ঘটে। একই ধরনের চিকিৎসায় আরও একজন রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, আমিরুল ইসলাম দাবি করে আসছেন তিনি বাংলাদেশ ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক বোর্ড-এর অধীনে খুলনা ইউনানী মেডিকেল কলেজ থেকে ডিপ্লোমা ইন ইউনানী মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার প্রদত্ত রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৪২৩ যা সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে ভুয়া ও মনগড়া বলে অভিযোগ রয়েছে।‎স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ১৮ বছর ধরে তিনি ডিগ্রিধারী চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন এবং সময়ের সাথে নিজেকে ‘বড় ডাক্তার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন। বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।নিজেকে বৈধতা দেওয়ার অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির কুলিয়া ইউনিয়ন শাখার সদস্য (সদস্য নং-১৩৪১) পরিচয় ব্যবহার করেন। ২০২০ সালে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের অধীনে ২১ দিনের একটি প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণের সনদ থাকলেও, সেই প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘ডাক্তার’ উপাধি ব্যবহার করা যায় কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।প্রতিবেদন প্রকাশের পর রিপোর্টার্স ক্লাবের ব্যানারে একটি প্রতিবাদ বিবৃতি দেওয়া হয়, যা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।‎এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি জানতে হবে, হুট করে বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয়—এমন মন্তব্য করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।অন্যদিকে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, উক্ত চেম্বারের কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন থাকার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি শুনেছেন এবং সরেজমিনে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।‎এসব অভিযোগের বিষয়ে বর্তমান সাতক্ষীরা সাংবাদিক টিম সরজমিনে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নাকের পলিপাস অপসারণের নামে এসিড প্রয়োগ কোনোভাবেই নিরাপদ বা স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে না।এক তরুণের মৃত্যু, একাধিক রোগীর ক্ষতি এবং দীর্ঘদিনের জাল ডিগ্রি ব্যবহারের অভিযোগ—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এত বছর ধরে চলেছে এই ‘চিকিৎসা ব্যবসা’?এখন দেখার বিষয়, তদন্তে কী উঠে আসে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।