
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক:সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওলজি) শেখ জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নতুন মোড় নিয়েছে। বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রভাবশালী মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে তিনি ও তার পরিবারের নামে বিপুল পরিমাণ জমি, বহুতল ভবন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। পুরাতন সাতক্ষীরার ৫৭ প্লটে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ, কাটিয়া লস্করপাড়া এলাকায় প্রাচীরঘেরা জমি ও আমবাগান, গ্রামে পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের বাড়ি, শহর ও কালিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় জমি ক্রয় এবং নাজিমগঞ্জ বাজারে একাধিক দোকান থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।অভিযোগ রয়েছে, বড় ভাইয়ের নামে পরিচালিত লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতালটি প্রকৃতপক্ষে তার নিয়ন্ত্রণে। কালিগঞ্জের পাউখালী এলাকায় গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম, পরিবেশ ও ফায়ার সার্ভিস অনুমোদন না থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে।সূত্র বলছে, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাব, এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান খাতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষার বিপরীতে আদায়কৃত অর্থের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে অনিয়মের মাধ্যমে বণ্টিত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।জাহাঙ্গীর আলম ২০০৬ সালে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ-এ চাকরি জীবন শুরু করেন। পরে শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল-এ দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে বদলি হয়ে ডুমুরিয়া, টিবি হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন। দীর্ঘ সময় ল্যাব সেক্টরে দায়িত্ব পালনকালে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সেসময় থেকেই তৈরি হয় বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মহল ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন মহলে তদবির ও প্রভাব খাটানোর দৌড়ঝাঁপ চলছে এমন তথ্যও মিলেছে অনুসন্ধানে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ীই তার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।এদিকে জেলার সচেতন মহল বিষয়টি তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। অভিযোগকারীদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।
আপনার মতামত লিখুন :