গন্তব্যে পৌঁছানোই দায়, বেঁচে ফেরা অনিশ্চিত: মিমজাল ও ডলফিন পরিবহনে  লাগামহীন ওভারলোড! ‎


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন /
গন্তব্যে পৌঁছানোই দায়, বেঁচে ফেরা অনিশ্চিত: মিমজাল ও ডলফিন পরিবহনে  লাগামহীন ওভারলোড!   ‎

বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক :সাতক্ষীরা থেকে কুয়াকাটাগামী গণপরিবহন মিমজাল ও ডলফিন এখন আর যাত্রীবাহী বাস হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে না,,বাস্তবে এগুলো পরিণত হয়েছে অবাধ পণ্য পরিবহন ও সন্দেহজনক কার্যক্রমের চলমান বাহনে। দিনের পর দিন প্রকাশ্য ওভারলোড, নিয়মহীন চলাচল এবং প্রশাসনিক নজরদারির সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

‎সাতক্ষীরা থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর বীনের পোতা, ১৮ মাইল এলাকায় পৌঁছাতেই এই দুই পরিবহনে শুরু হয় অতিরিক্ত অবৈধভাবে  মাছ  বোঝাই। বাসের  বক্সে, লাগেজ অংশ ও ছাদজুড়ে টনকে টন মাছের পেটি লোড করা হয়। যাত্রী পরিবহনের নামে এভাবে পণ্য বোঝাই করা সড়ক পরিবহন আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হলেও কোথাও দেখা যায় না কোনো চেকপোস্ট, তল্লাশি বা ওজন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা।এই ওভারলোড শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি।এতে যাত্রীদের বসার জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে, গাড়ির ভারসাম্য থাকে না  এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা ঘটে। তবুও দিনের পর দিন একই কায়দায় চলাচল করছে বাস দুটি, যেন নিয়ম মানার কোনো বাধ্যবাধকতাই নেই।

‎সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে মাছ পরিবহনের আড়াল নিয়ে। ভোমরা স্থলবন্দর ও ভারত সীমান্তসংলগ্ন এলাকা হওয়ায় এই রুট দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। মাছের পেটির ভেতরে আদৌ কী বহন করা হচ্ছে,,তা যাচাই করার কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ফলে জনমনে সন্দেহ জোরালো হচ্ছে, মাছের আড়ালে মাদকসহ অবৈধ পণ্য পারাপারের করিডোর হিসেবে এই গণপরিবহন ব্যবহার করা হচ্ছে নাতো।

‎উদ্বেগজনকভাবে, একই দৃশ্য দেখা যায় কুয়াকাটা থেকে সাতক্ষীরায় ফেরার পথেও। যাত্রীবাহী বাসে পণ্যবোঝাইয়ের এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়,বরং একটি স্থায়ী ও সংগঠিত পদ্ধতি।

‎আরেকটি গুরুতর অভিযোগ  যাত্রীদের কার্যত জিম্মি করে রাখা। ওভারলোডের প্রতিবাদ বা আপত্তি জানানোর সুযোগ নেই। গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য  বিকল্প কনো ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা সম্পন্ন করছেন। এতে গণপরিবহন সেবার মৌলিক নীতিই ভেঙে পড়ছে।প্রশ্ন এখন একটাই,,এই যানবাহনগুলো কি যাত্রী পরিবহনের জন্য, নাকি অবৈধভাবে মাছ ও  সীমান্তকেন্দ্রিক  কারবারের নিরাপদ বাহন?এত প্রকাশ্য অনিয়মের পরও প্রশাসনের নীরবতা কি কেবল অবহেলা, নাকি এর পেছনে রয়েছে অদৃশ্য সুরক্ষা?

‎এসব বিষয়ে এই দুই গণপরিবহনে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের কাছে জানতে চাইলে তারা সব বিষয়ে অস্বীকার করেন বলেন গাড়ি ফাঁকা থাকলে মাছ নেওয়া  হয়।এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চুগনগর ও খর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশের ওসি জানান, বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। আপনাদের  মাধ্যমে অবগত হলাম। অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

‎সাতক্ষীরা ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎এবং যাত্রীরা বলেন , আজ যদি এই ওভারলোডের পরিণতি কোনো বড় দুর্ঘটনায় রূপ নেয়, তাহলে দায় শুধু পরিবহন মালিকদের নয়,দায় পড়বে সেই সব কর্তৃপক্ষের ওপর, যারা সবকিছু জেনেও চোখ বন্ধ করে আছে।