নিন্ম মানের বেকারী পণ্যে ছয়লাব সাতক্ষীরা, সাইনবোর্ড নেই অধিকাংশ বেকারীর


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৪, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ন / ০
নিন্ম মানের বেকারী পণ্যে ছয়লাব সাতক্ষীরা, সাইনবোর্ড নেই অধিকাংশ বেকারীর

* নিন্ম মানের পন্যে ছেয়ে গেছে সাতক্ষীরা শহর।

* লাইসেন্স, সাইনবোর্ড কিছুই নেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের।

* তদারকির অভাব।

* নোংরা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারী খাদ্য।

* কর্মচারিদের নেই নিদিষ্ট পোশাক ও স্বাস্থ্য সনদ।

* একই ছুপড়ি ঘরে খারখানা ও টয়লেট।

* বিনেরপোতা নিউ আব্দুল্লাহ ফুড, সঙ্গীতা মোড়ের রুমন ফুড প্রোডাক্ট,ও তালতলার বিসমিল্লাহ ফুডের চিত্রে ভয়াবহ অবস্থা।

* সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজে উঠছে ভূইফোঁড় বেকারী।

বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক :  সাতক্ষীরা শহর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে বিভিন্ন বেকারি ও খাদ্যপণ্য তৈরির প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর দৃশ্যমান সাইনবোর্ড নেই এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন, লাইসেন্স ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাগজপত্র রয়েছে কি না নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিভিন্ন বেকারি পণ্য তৈরির অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা কিছু বেকারিতে নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে পাউরুটি, বিস্কুট, কেকসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও উৎপাদনস্থলের কাছাকাছি টয়লেট থাকার অভিযোগও রয়েছে। এতে খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা ও ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের নির্দিষ্ট পোশাক, গ্লাভস, মাস্কসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের ব্যবস্থা নেই। কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সনদ রয়েছে কি না, সেটিও অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে লাইসেন্স, নিবন্ধন এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।স্থানীয়দের অভিযোগের তালিকায় বিনেরপোতার নিউ আব্দুল্লাহ ফুড, সঙ্গীতা মোড়ের রুমন ফুড প্রোডাক্ট,এবং তালতলার বিসমিল্লাহ ফুড-এর নামও এসেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন, নমুনা পরীক্ষা ও নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী সচেতন মহলের। জানা গেছে শুধুমাত্র ট্রেডলাইসেন্সের উপর নির্ভর করে ব্যবসা পরিচালনা করে চলেছে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো।বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও লাইসেন্সিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। নিরাপদ খাদ্যের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপদ পানি ও খাদ্য উপকরণ ব্যবহার এবং খাদ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।এদিকে, বেকারি পণ্যের মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পরীক্ষাগারে মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ও রাসায়নিক দূষণসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা সম্ভব। ল্যাবরেটরি তথ্যেও বেকারি পণ্যে ফিকাল কোলিফর্ম, ছত্রাকসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ব্যবস্থা উল্লেখ রয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, সাতক্ষীরা শহর ও জেলার বেকারিগুলোতে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি জোরদার করা হোক। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই, সেগুলোর বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগ থাকলে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হোক।এব্যাপারে বেকারি মালিকরা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ত্রুটি থাকলে আমরা ঠিক করে নিব। সব ধরনের লাইসেন্স পাওয়া কঠিন। এসময় সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন ব্যবসায়ীরা।  সচেতন নাগরিকদের মতে, ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি, লাইসেন্স ও নিবন্ধন যাচাই এবং খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষা জরুরি।এব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরা জেলার সহকারী পরিচালক মো: মেহেদী হাসান তানভীর জানান, অস্বাস্থ্যকর বেকারীর বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে থাকবে।এব্যাপারে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপংকর দত্ত জানান, আমরা সবসময় ব্যবসায়ীদের সতর্ক করি। মাঝে মধ্যে মিটিং করে ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ দেই। তার পরেও সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।এব্যাপারে জেলা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা জানান, বেকারিসহ বিভিন্ন ভেজাল পণ্যের ব্যাপারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।