রক্ষকই যখন ভক্ষক: ক্লিনিক সিন্ডিকেট ও নারী কেলেঙ্কারিতে বিদ্ধ  সিভিল সার্জন অফিসের  ডাঃ জয়ন্ত সরকার! 


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন /
রক্ষকই যখন ভক্ষক: ক্লিনিক সিন্ডিকেট ও নারী কেলেঙ্কারিতে বিদ্ধ  সিভিল সার্জন অফিসের  ডাঃ জয়ন্ত সরকার! 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার স্বাস্থ্য খাতে এক আতঙ্কের নাম ডা: জয়ন্ত সরকার। মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) পদে থেকে তিনি গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির এক বিশাল সিন্ডিকেট। অবৈধ ক্লিনিক থেকে লাখ লাখ টাকা মাসোহারা আদায়, অভিযানের নামে পক্ষপাতিত্ব, সাম্প্রদায়িক তোষণ এবং একের পর এক নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ এখন জেলাজুড়ে টক অব দ্য টাউন। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি যেন এক ‘অঘোষিত সম্রাট’ হয়ে উঠেছেন।অভিযোগ উঠেছে, সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অবৈধ বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো ডা: জয়ন্ত সরকারের আয়ের প্রধান উৎস। প্রতি মাসে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, তার নেতৃত্বেই অবৈধ ক্লিনিকগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই অভিযানগুলো আসলে তার ‘মাসোহারা’ নিশ্চিত করার হাতিয়ার। যারা নিয়মিত টাকা দেয়, তাদের প্রতিষ্ঠান থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। পক্ষান্তরে, যারা অনৈতিক সুবিধা দিতে অস্বীকার করে কিংবা তার দুর্নীতির প্রতিবাদ করে, তাদের প্রতিষ্ঠানেই চলে সাঁড়াশি অভিযান।​​সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত ‘জয় ডায়াগনস্টিক সেন্টার’। স্থানীয়দের অভিযোগ, নূন্যতম বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও ডা: জয়ন্ত সরকারের সরাসরি ছত্রছায়ায় এই প্রতিষ্ঠানটি রমরমিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তার নিজ সম্প্রদায়ের কেউ অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করলে তিনি সেখানে আইনের প্রয়োগ তো দূরের কথা, উল্টো তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করেন।শুধু এখানেই শেষ নয়-​​ডা: জয়ন্ত সরকারের বিরুদ্ধে অতীতেও গুরুতর নারী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এক দরিদ্র পরিবারের মেয়েকে দিনের পর দিন জিম্মি করে শারীরিক নির্যাতন চালান তিনি। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে ওই কিশোরীকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও ওঠে, যা সে সময় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক প্রভাব এবং অর্থের জোরে সেই ঘটনা ধামাচাপা দেন তিনি।​​সম্প্রতি এক মুসলিম তরুণীকে নিজের বাসায় রেখে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ডা: জয়ন্ত সরকার। ধর্ম পরিবর্তন না করিয়েই ওই তরুণীকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তিনি বসবাস করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী হয়ে মুসলিম মেয়ের সঙ্গে এভাবে রাত কাটানো এবং পরিচয় গোপন করার ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ডাক্তার জয়ন্ত সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কোন সমাজ মানি না আমার টাকা আছে আমার মন যা চায় তাই করবো। এসব বলে সাংবাদিকদের অসত্য ভাষায় গালিগালাজ করে ফোনটি লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে স্থানীয় ইসলাম ধর্মাবলম্বী ও বিশেষজ্ঞদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা যেকোনো সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।সরকারি উচ্চপদে থেকে একজন কর্মকর্তার এমন নৈতিক স্খলন এবং দুর্নীতির মহোৎসবে ক্ষুব্ধ সাতক্ষীরাবাসী। স্বাস্থ্য বিভাগের সুনাম রক্ষার্থে এবং জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডা: জয়ন্ত সরকারের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।