শ্যামনগরের বাবলু এখন শহরের নারী খাদক সুশীলনের  মনিরুজ্জামান  স্যার


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ৮:৪৩ অপরাহ্ন /
শ্যামনগরের বাবলু এখন শহরের নারী খাদক সুশীলনের  মনিরুজ্জামান  স্যার

বিশেষ প্রতিনিধি : বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) সুশীলন-এর  উপপরিচালক মনিরুজ্জামান ওরফে বাবলুর বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি, স্বজনপ্রীতি, অফিসের পিয়নকে কর্মকর্তা বানানো এবং সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ প্রতি ৫ হাজার টাকা কমিশন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।শ্যামনগর থেকে সাতক্ষীরা শহরে এসে নাম বদলে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বহু পরিবারকে নিঃস্ব করার তথ্য এসেছে বর্তমান সাতক্ষীরার কাছে । নারী লোভী বাবলুর কারণে অনেকের সংসার ভেঙেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্যামনগরের আলোচিত বাবলু সাতক্ষীরা শহরে পাড়ি জমিয়ে নাম পরিবর্তন করে হন মনিরুজ্জামান। পরবর্তীতে তিনি সুশীলন এনজিওর উপপরিচালক পদে আসীন হন। সেখানে নিজ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি শ্যামনগরের কসাই খোকনের স্ত্রী প্রিয়াকে ভাগিয়ে এনে সুশীলন সাতক্ষীরা অফিসে পিয়ন হিসেবে চাকরি দেন। প্রিয়া পরিছন্নতা কর্মী ও চা পরিবেশনের কাজ করতো। পরবর্তীতে প্রিয়াকে অবৈধভাবে ভোগ করার পাশাপাশি অফিসে চা বানানো সেই পিয়নকে অফিসার মর্যাদায় উন্নীত করেন মনির। প্রিয়ার ২০ বছরের একটি সন্তান থাকা সত্ত্বেও তাকে নিয়ে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। প্রিয়াকে নিয়ে মনিরুজ্জামান বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে নিয়ে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আছে হর হামেশা। এটা শহরের মুখরোচক সংবাদে পরিণত হয়েছে। এসব বিতর্কিত সম্পর্কের কারণে মনিরুজ্জামানের  স্ত্রীর সাথে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। এ নিয়ে স্থানীয় থানা-পুলিশ ও দশ থেকে বিশ বার বিচার-সালিশ হলেও কোনো তোয়াক্কা করেননি মনির। প্রিয়ার প্রেমে পাগল মনির। যার প্রভাব পড়েছে সুশীলন এনজিও তেও। এছাড়াও মনিরের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নাম করে বহু  নারীকে ফাঁদে ফেলে তাদের সাথে অনৈতিক কাজ করে কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করার অভিযোগ আছে। মনিরের অর্থ ও ক্ষমতার দাপটে ভুক্তভোগী এসব নারীরা মুখ খোলার সাহস পায়নি। এদিকে,  সুশীলনের উপপরিচালক পরিচয়ে সাতক্ষীরার ৬টি উপজেলায় পরিচালিত মাইক্রোক্রেডিট (ক্ষুদ্রঋণ) কার্যক্রমকে নিজের অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার বানিয়েছেন। লোন দেওয়ার কথা বলে সাধারণ ও অসহায় পরিবারগুলোর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।চড়া সুদে লোন নিতে গেলেও ব্রাঞ্জ ম্যানেজারের মাধ্যমে প্রতি ১ লাখ টাকায় সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামানকে ৫ হাজার টাকা করে বাধ্যতামূলক কমিশন দিতে হয়।চড়া সুদের ওপর অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা কমিশনের বোঝা গুনতে গিয়ে সাতক্ষীরার দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারগুলো সুশীলনের সুদের জালে পিষ্ট হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে।এসব গুরুতর অভিযোগ, ব্যক্তিগত নৈতিকতাহীনতা ও আর্থিক শোষণের বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামানের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান।এ ব্যাপারে দেবনগর গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুল গফফার জানান, সুশীলনের মনিরুজ্জামান  একজন অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসার। তার বিরুদ্ধে নারি কেলেঙ্কারির একাধিক অভিযোগ আছে। সুশীলনের সমিতির সদস্য হতে চেয়ে আমি পারিনি।ঋণের ব্যাপারে কথা বললে ম্যানেজার বলেছে সাতক্ষীরা সদরের বিষয়ে মনির স্যারের সব কথা বলেন। লাখে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ দিলে স্যার ঋণের ব্যাপারে সুপারিশ করতে পারে।শহরের দক্ষিণ কাটিয়া এলাকার শাকিল বলেন, সুশীলনের অফিসার মনিরের ব্যাপারে আমার ধারণা আছে। সে একজন নারী খাদক। চাকরি দেওয়ার নাম করে বহু নারীকে ভোগ করেছে। বর্তমানে প্রিয়া নামের একটি মেয়েকে নিয়ে ফুর্তি ফাত্তা করে বেড়ায় । এটা শহরের এখন মুখরোচক সংবাদ। তিনি আদৌও ভালো লোক নন। যে এনজিও তাকে সাপোর্ট দেয় সেই এনজিওর ব্যাপারেও আমাদের সন্দেহ আছে। সুশীলনের মতো প্রতিষ্ঠানে থেকে এমন নৈতিক অবক্ষয় ও অপকর্মের ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহক ও সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং তদন্তপূর্বক কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক অবক্ষয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রিয়া দাবি করেন,প্রথমে আমাদের মধ্যে কোনো সামাজিক বা আইনি বন্ধন ছিল না,কথাটি সত্য। কিন্তু সমাজের চোখ রাঙানি, লোকলজ্জা আর মনিরের সাথে আমার আত্মিক সম্পর্কের দিক বিবেচনা করে পরবর্তীতে আমরা গোপনে বিয়ে করে সংসারী হয়েছি।