একই সড়কে দুই অর্থবছরে দুই প্রকল্প, সংবাদ প্রকাশের পর নেমপ্লেট পরিবর্তনের অভিযোগ


News Desk (s) প্রকাশের সময় : জুন ২০, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন /
একই সড়কে দুই অর্থবছরে দুই প্রকল্প, সংবাদ প্রকাশের পর নেমপ্লেট পরিবর্তনের অভিযোগ
কলারোয়া প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ১২নং যুগিখালী ইউনিয়নের একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একই সড়কে ধারাবাহিকভাবে একাধিক প্রকল্পে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেখানো হলেও বাস্তবে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এমনকি একটি অনলাইন সংবাদ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একই স্থানে প্রকল্পের নেমপ্লেট পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় একই সড়কের উন্নয়নের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়। প্রকল্পের নাম ছিল “পাইকপাড়া দিদার উদ্দীনের বাড়ি হতে আইয়ুব দালালের টিপের মোড় অভিমুখে রাস্তা মাটি দ্বারা সংস্কার”। তবে এলাকাবাসীর দাবি, ওই প্রকল্পের কাজ বাস্তবে যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি এবং বরাদ্দের অর্থের প্রতিফলন সড়কে দৃশ্যমান নয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একই এলাকায় আবারও একটি টিআর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের নেমপ্লেট অনুযায়ী বরাদ্দের পরিমাণ ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। প্রকল্পে পাইকপাড়া মাহবুব সানার পুকুর পাড়ে মাটি ভরাট এবং কামারালী বহুমুখী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথা উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে মো. বিল্লাল হোসেনের নামও নেমপ্লেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় আফছার আলী ও ওসমান গনীর অভিযোগ, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকার প্রকল্পের ক্ষেত্রেও কাজের মান ও বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তারা দাবি করেন, রাস্তার যথার্থ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়নি এবং প্রকল্পের উদ্দেশ্য অনুযায়ী দৃশ্যমান কাজের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে শুক্রবার সকালে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে-এ প্রকল্পের কাজের অনিয়ম ও বাস্তবায়ন নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, সংবাদ প্রকাশের পর সন্ধ্যার আগেই একই স্থানে পূর্বের নেমপ্লেট সরিয়ে নতুন একটি নেমপ্লেট স্থাপন করা হয়, যেখানে বরাদ্দের পরিমাণ ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
একই স্থানে অল্প সময়ের ব্যবধানে নেমপ্লেট পরিবর্তনের ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানতে চাইছেন, প্রকৃত প্রকল্প কোনটি, বরাদ্দের সঠিক পরিমাণ কত এবং কোন কাজের বিপরীতে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি মো. বিল্লাল হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে ( ০১৭৩৯১৩২৯৭০) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।