
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক : অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ভরা সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সমবায় অফিস ঘিরে বিতর্ক যখন কিছুতেই থামছে না, ঠিক তখনই চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ফুটেজ এসেছে ‘বর্তমান সাতক্ষীরা’ টিমের হাতে।সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মুর্শিদ আলম সরকারি নীতি-নিয়মকে সম্পূর্ণ তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছেমতো অফিস পরিচালনা করেন। অফিস চলাকালীন সময়ে এই সমবায় কর্মকর্তা ব্যস্ত থাকেন প্রমোদে। আর কর্মকর্তার অনুপস্থিতির সেই সুযোগে অফিসের কর্মচারীরা ডিউটি চলাকালেই নাকে তেল দিয়ে ঘুমে মগ্ন থাকেন। ফলে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ অফিসে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।সম্প্রতি প্রাপ্ত একটি ছবিতে দেখা যায়, উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তার চেয়ারটি ফাঁকা পড়ে রয়েছে, আর পাশেই চেয়ারে হেলান দিয়ে আরামে ঘুমাচ্ছেন এক কর্মচারী।সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৮ এপ্রিল যোগদান করার পর থেকেই সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মুর্শিদ আলম বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। উপজেলার ১৪৭টি সমবায় সমিতি থেকে নিয়মিত ঘুষ গ্রহণ, লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নে মোটা অঙ্কের অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, গত জুন মাসের অডিটে মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালদের মাধ্যমে এবং সরাসরি কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের তথ্য মিলেছে। এছাড়া উপজেলা কৃষি অফিসের কেনাকাটায় দুর্নীতি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নিজেকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের কর্মী পরিচয় দিয়ে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন বলে স্থানীয়রা জানান।দুর্নীতির টাকায় সমবায় কর্মকর্তা মুর্শিদ আলম সাতক্ষীরা ও তার গ্রামের বাড়ি আশাশুনিতে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নামে-বেনামে, স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়স্বজনের অ্যাকাউন্টে অঢেল অর্থ এবং স্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন।আশাশুনি এলাকার স্থানীয় অধিবাসী শাহনওয়াজ জানান, মুর্শিদ ভাই আমাদের সামনেই বেড়ে উঠেছেন। উনার বাবার তেমন কিছু ছিল না। কিন্তু এখন গ্রামে শুনছি উনি কোটি কোটি টাকার মালিক।তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ, অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের সব অভিযোগ অস্বীকার করে সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মুর্শিদ আলম জানান, “চাকরি জীবনের শুরুর দিকে আমি ও আমার ভাই একত্রে ৯০ হাজার টাকা কাঠা দরে জমি ক্রয় করি। পরে সেখানে আমরা বাড়ি তৈরি করি। চারতলা বাড়িটি আমার একার নয়। এছাড়া আমাদের গ্রামে পৈত্রিক সম্পত্তি রয়েছে।অফিস চলাকালীন সময়ে প্রমোদ ভ্রমণ, কর্মচারীদের চরম অবহেলা এবং ব্যাপক দুর্নীতির এসব তথ্যে ক্ষুব্ধ সাতক্ষীরার সচেতন মহল। তারা দ্রুত তদন্তপূর্বক দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কঠোর আইনানুগ হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :