কলারোয়ায় পৌরসভাকে না জানিয়ে রাস্তার কাজ শুরু, এলাকাবাসির বাঁধার মুখে কাজ বন্ধ


News Desk (s) প্রকাশের সময় : মার্চ ৩০, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ন /
কলারোয়ায় পৌরসভাকে না জানিয়ে রাস্তার কাজ শুরু, এলাকাবাসির বাঁধার মুখে কাজ বন্ধ

‎কলারোয়া প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড মির্জাপুর গ্রামের পলাশ সিনেমা হল সংলগ্ন বরফ কলের মোড় থেকে আজিজুল মৌরির বাড়ি পর্যন্ত ঢালাই রাস্তার শুরুতেই ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসি উত্তেজিত হয়ে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে এবং থানায় ওই কাজের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এক জোসনা নামে নারী বাদি হয়ে সাধারণ ডায়েরী করেছেন। যার নং-১১৬৪,তারিখ-২৮/০৩/২০২৬ ইং।

‎কলারোয়া পৌরসভার অফিস সূত্রে জানা যায়, কলারোয়া পৌর সভায় বিভিন্ন প্যাকেজে রাস্তার কার্পেটিং, ঢালায় রাস্তা ও ড্রেনের তৈরীর কাজ চলছে। এসব কাজের মধ্যে ১নং প্যাকেজে পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড মির্জাপুর গ্রামের পলাশ সিনেমা হল সংলগ্ন বরফ কলের মোড় থেকে আজিজুল মৌরির বাড়ি পর্যন্ত  ২০০ মিটার ঢালাই রাস্তার জন্য সরকার বরাদ্দ দেন ১৩ লাখ ৩১ হাজার ৮৬২ টাকা। এই কাজের  দরপত্র আহবান চেয়ে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রদূত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ১ ডিসেম্বর ওই কাজের টেন্ডার হয়। কাজটি পায় মেসার্স আনোয়ার ট্রের্ডাসের স্বত্তাধিকারী পলাশ হোসেন। কাজটির চুক্তি বা ওর্য়াক ওয়াডার হয় ২৮ ডিসেম্বর।
‎চুক্তিতে উল্লেখ আছে রাস্তাটির দৈঘ্য ২০০ মিটার, প্রস্থ ১.৮ মিটার, দুই সাইটে গাথুনি ১০ ইঞ্চি ও উচু ২ ফুট, গাথুনির নীচে ঢালাই ৩ ইঞ্চি, মেইন রাস্তায় ১ ফুট বালু দিয়ে খোয়া ৫ ইঞ্চি ঢালাই হবে।
‎এলাকাবাসির অভিযোগে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর সভার ইঞ্জিনিয়ার সহিদুল ইসলামকে ম্যানেজ করে রাস্তার দুই সাইটে গথিুনীর নীচে ১০০ মিটার রাস্তা ১ ইঞ্চি ঢালাই দিয়ে গাঁথা হয়েছে। এ ছাড়া ৫০ মিটার রাস্তার দুই সাইটে কোন ঢালাই না দিয়েই গাথাঁর কাজ শেষ করেছে। দুই সাইটের গাথুনী দুই ফুট উচু হয়নি। রাস্তার মাঝখানে ১ ফুট বালু দেওয়া হয়নি। কোন কোন জায়গায় রাস্তার প্রস্থ ১.৮ মিটার করা হয়নি। ছুটির দিনে কাজ করা। এসব নানা অভিযোগ এনে ছুটির দিনে গত শনিবার দুপুরে এলাকাবাসি শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে ঠিকাদার পলাশ হোসেন ওই স্থানে পৌছে কারা কাজ বন্ধ করেছে বলে হুমকি দিলে এলাকাবাসি এবং ঠিকাদের মধ্যে উচ্চ বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে ঠিকাদার পলাশ জোসনা নামে এক নারীকে মারতে উদ্যত হয়। এ ঘটনায় ওই নারী কলারোয়া থানায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে  সাধারণ ডায়েরী করেছেন বলে জানান
‎মেসার্স আনোয়ার ট্রের্ডাসের স্বত্তাধিকারী পলাশ হোসেন জানান, এ বিষয়ে আমি এখন কোন কথা বলতে পারবো না। পরে  কথা হবে। এখন আমার পাশে ইঞ্জিনিয়ার  সহিদুল ভাই আছে।
‎কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহীন জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে ছুটির দিনে কাজ করতে নিষেধ করে এসেছে।
‎কলারোয়া পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার সহিদুল ইসলাম জানান, উক্ত রাস্তাটি কত তারিখে কখন শুরু করেছে আমি জানিনা। গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) আমি ওই রাস্তায় গিয়েছিলাম। যতটুকু রাস্তার কাজ করা হয়েছে তা সিডিউল অনুযায়ী হয়নি। তাকে চিটি দেওয়া হবে।  আমাদের পৌরসভাকে না জানিয়ে কেন কাজ শুরু করা হলো। এসব কাজের বিল পৌরসভা দিবে না। পুনরায় ওই রাস্তার কাজ সিডিউল অনুযায়ী করা হবে বলে তিনি জানান। এখন কাজ বন্ধ থাকবে বলেও তিনি জানান।