
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক:সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাবেক নাজির এবং বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত মোঃ শাহাবুদ্দিনকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পূর্বের অবৈধ সম্পদ, নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পর এবার তার ব্যক্তিগত জীবন, আয়ের উৎস এবং সম্পদের বিস্তার নিয়ে আরও বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে।অভিযোগ অনুযায়ী, শহরের বাবুলিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১০ কাঠা জমির ওপর একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন, যা তার ছোট স্ত্রীর নামে রয়েছে। একইভাবে পুলিশ লাইন্স স্কুলের সামনে বড় স্ত্রীর নামে ৪ তলা আরেকটি ভবন রয়েছে, যা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে স্ত্রী-সন্তানদের নামে বিপুল সম্পত্তি এবং গ্রামে বেনামে জমি ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে।নতুন করে উঠে আসা তথ্যে জানা যায়, আগে দুই স্ত্রীর তথ্য সামনে এলেও এখন দাবি করা হচ্ছে—তার আরও একজন স্ত্রী রয়েছেন এবং অন্তত দুই কন্যা সন্তানের জনক তিনি। একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে এই বহুমুখী পারিবারিক ব্যয়, সম্পদ গঠন ও জীবনযাত্রার কোনো সামঞ্জস্য খুঁজে পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।এর পাশাপাশি বাজারে দোকান ইজারা দেওয়ার নামে অর্থ আদায়, নিয়োগ বাণিজ্য এবং ‘এলআর ফান্ড’ এর নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে কালিগঞ্জ বাজারের দোকান ইজারা নিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন নাজির শাখায় কর্মরত থাকাকালে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি ঘনিষ্ঠজনদের সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।নিউজ প্রকাশের পর থেকেই অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন বিভিন্ন মহলে তদবির ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে জনমনে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শাহাবুদ্দিন দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহী।সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, একজন নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীর নামে এ ধরনের বিপুল সম্পদ, একাধিক সংসার পরিচালনা এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ প্রশাসনের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন :