কলারোয়ায় অভিযান: ৩টি ক্লিনিক ও ২টি এক্স-রে সেন্টার বন্ধের নির্দেশ


News Desk (s) প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৫, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ন /
কলারোয়ায় অভিযান: ৩টি ক্লিনিক ও ২টি এক্স-রে সেন্টার বন্ধের নির্দেশ
রেজওয়ান উল্লাহ, কলারোয়া: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও বৈধ কাগজপত্রের অভাবে ৩টি ক্লিনিক ও ২টি এক্স-রে সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম।
রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে তিনি আকস্মিকভাবে উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে বের হন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ন্যূনতম মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে না। কোথাও নেই প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, কোথাও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে অদক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে, আবার কোথাও স্বাস্থ্যবিধি চরমভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠানে যন্ত্রপাতি ব্যবহারে অনিয়ম, রোগীদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণে ঘাটতি এবং জরুরি সেবা প্রদানের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব লক্ষ্য করা যায়।
এসব গুরুতর অনিয়মের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে ৩টি ক্লিনিক ও ২টি এক্স-রে সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দেন সিভিল সার্জন। বন্ধ করে দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—চন্দনপুর ইউনিয়নের গয়ড়া বাজারে অবস্থিত ডা. রমজান আলীর “আছিয়া মেমোরিয়াল ক্লিনিক”, ডা. কবিরুল ইসলামের “মায়ের হাসি ক্লিনিক”, পৌর সদরের “জনসেবা ক্লিনিক” এবং গরু হাটখোলা মোড়ে অবস্থিত সানলাইট এক্স-রে সেন্টার ও কলারোয়া এক্স-রে সেন্টার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠছিল। তবে হঠাৎ করে এমন কঠোর অভিযানে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসা সেবা পাবে।
এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত নীতিমালা ও আইন মেনে চলবে না, তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে কোনো অনিয়মই সহ্য করা হবে না।”
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালামও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা একটি সংবেদনশীল খাত। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। তাই যারা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বা নিয়মবহির্ভূতভাবে ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করছেন, তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করে সঠিক নিয়মে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পর্যায়ক্রমে এ ধরনের অভিযান চালানো হবে এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যসেবা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সচেতন নাগরিকরা।