সুদের জালে আটকা পড়ে এলাকা ছাড়ছে ব্যবসায়ী ও খামারিরা-কে এই কালীগঞ্জের সুদ ব্যবসায়ী আব্দুল বারী?


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৭, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ন /
সুদের জালে আটকা পড়ে এলাকা ছাড়ছে ব্যবসায়ী ও খামারিরা-কে এই কালীগঞ্জের সুদ ব্যবসায়ী আব্দুল বারী?

শ্যামনগর সংবাদদাতা:সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে নকল পোল্ট্রি ফিড ব্যবসার আড়ালে গড়ে ওঠা সুদের জালে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন শত শত খামারি ও খুচরা ব্যবসায়ী এমন অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন জিম পোল্ট্রি ফিডের পরিচালক আব্দুল বারী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ সুদে টাকা দিয়ে স্থানীয়দের ওপর আর্থিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে জানা গেছে।ভুক্তভোগীদের দাবি, নকল ফিড বিক্রির পাশাপাশি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও ব্ল্যাংক চেক নিয়ে সুদের লেনদেন চালাতেন আব্দুল বারী। শুরুতে সহজ শর্তে টাকা দিলেও পরে অস্বাভাবিক সুদের চাপ সৃষ্টি করে দেনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। ফলে ব্যবসায় লোকসান, দেনার চাপ এবং সামাজিক চাপে পড়ে অনেকেই এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।স্থানীয় সূত্র জানায়, কালিগঞ্জের বিভিন্ন গ্রাম বিশেষ করে রতনপুর, নলতা ও আশপাশ এলাকায় তার সুদের জাল বিস্তৃত। একাধিক খামারি জানান, সুদের কিস্তি দিতে না পারলে তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো, এমনকি চেকের মাধ্যমে আইনি জটিলতায় ফেলার ভয় দেখানো হতো।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, যেখানে “আবু আবু” নামে এক facebook ব্যবহারকারী আব্দুল বারীকে ‘সুদখোর’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন সে সুদের ব্যবসার টাকায় নলতায় চারতলা আলিশান বাড়ি, নলতায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জমি এবং ঢাকা-খুলনায় একাধিক ফ্ল্যাট গড়ে তুলেছেন বারী।কৃষ্ণনগর বাজারের ব্যবসায়ী জাহিদের অভিযোগ, “সুদের পাশাপাশি প্রতারণামূলক ব্যবসাও চালান বারী। নকল ফিড সরবরাহ করে খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়, এরপর সুদের টাকা দিয়ে তাদের আরও ফাঁদে ফেলা হয়।আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, কালিগঞ্জের একটি গোপন স্থানে নকল ওষুধ তৈরির কারখানাও রয়েছে তার নিয়ন্ত্রণে। এসব ওষুধ ব্যবহার করে খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।ভুক্তভোগী আজহারুলের ঘটনা এই চক্রের ভয়াবহতার একটি উদাহরণ। কালিগঞ্জের রতনপুরে ফিড ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। নকল ফিড ও সুদের চাপে ব্যবসায় ধস নামলে শেষ পর্যন্ত এলাকা ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে একটি গার্মেন্টসে চাকরি নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য হন।এদিকে এলাকাজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল বারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন টাকা আছে ক্ষমতা আছে যা মন চায় তাই করবো তাতে আপনার । এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সুদের এই ভয়ংকর চক্র ভেঙে দিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে নকল ফিড ও ওষুধ কারখানার অভিযোগ তদন্ত করে আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।