তালিকায় নেই, তবুও ঠিকাদার বানিয়ে প্রত্যয়ন বিক্রি করছে প্রকৌশলী আশরাফুল আলম!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১২, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ন /
তালিকায় নেই, তবুও ঠিকাদার বানিয়ে  প্রত্যয়ন বিক্রি করছে প্রকৌশলী আশরাফুল আলম!

বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক:সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডে ‘প্রত্যয়নপত্র বাণিজ্য’ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিনি অবৈধভাবে একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেছেন, তা আদালতে ব্যবহার করা হয়েছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি আশরাফুল আলম সাতক্ষীরার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও একাধিক মামলার আসামি সফিউর রহমান ওরফে ফটকা সফির পক্ষে একটি প্রত্যয়নপত্র দেন। ওই প্রত্যয়নপত্রে সফিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর তালিকাভুক্ত ঠিকাদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়।তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য বলছে, সফিউর রহমান পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর তালিকাভুক্ত কোনো ঠিকাদার নন। বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাসকিয়া লিখিতভাবে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম তাদের তালিকায় নেই এবং এ ধরনের কোনো প্রত্যয়ন তার দপ্তর থেকে দেওয়া হয়নি।একাধিক সূত্রের দাবি, আশরাফুল আলম মোটা টাকার বিনিময়ে এই প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন এবং সেটি একটি চলমান মামলায় সফিউর রহমান নিজের পক্ষে আদালতে দাখিল করেন। এতে বিচারিক প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার অপচেষ্টা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।আরও জানা গেছে, আশরাফুল আলমের যোগদানের পর থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রমে অনিয়ম, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজশ এবং ব্যক্তি স্বার্থে দপ্তর ব্যবহারের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের সাথে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে তিনি কার্যত দপ্তরটিকে ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।বিশেষ করে সফিউর রহমান ওরফে ফটকা সফির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়ভাবে আলোচিত এই ব্যক্তিকে ‘শেল্টার’ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।অভিযোগের বিষয়ে আশরাফুল আলমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ বলে।এদিকে,সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যদি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন, তাহলে তা শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলার লঙ্ঘনই নয়, বরং বিচার ব্যবস্থার ওপরও সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।