
*বাবুলিয়া বাজার ১০ কাঠা জমিতে বাড়ি
*পুলিশ লাইন্সের সামনে ৪ তলা বাড়ি
*বাজারে দোকান ইজারা নামে অর্থ আদায়
*নিয়োগ বাণিজ্যেরও অভিযোগ
*এলআর ফান্ডের নামে টাকা আত্নস্বাত।
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক:সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাবেক নাজির ও বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত মোঃ শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, নিয়োগ বাণিজ্য ও ঘুষ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে দাখিল করেছেন একজন ভূক্তভোগী।অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন নাজির শাখায় কর্মরত থাকাকালে তিনি অবৈধ উপায়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। শহরস্থ বাবুলিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় তার ছোট স্ত্রীর নামে প্রায় ১০ কাঠা জমি ক্রয় করে জমির ওপর আধুনিক বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করেছেন, যার বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক ২ কোটি টাকা।এছাড়া, সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স স্কুলের বিপরীতে তার বড় স্ত্রীর নামে প্রায় ৫ কাঠা জমির ওপর ৪ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা।অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার স্ত্রী সন্তানদের নামে প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। পাশাপাশি, নিজ গ্রামেও প্রায় ৭ বিঘা জমি ক্রয় করেছে নামে বেনামে, যার মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে এবং সাতক্ষীরা শহর সংলগ্ন রসুলপুর হাইস্কুলের পেছনে তাহার আরেকটি নিজ নামীয় ৩ তলা ভবন কিনেছেন ১৪ লাখ টাকা দিয়ে অথচ তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই।নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে বলা হয়, তিনি তার বড় ভাইয়ের ছেলেকে তৃতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নাজির শাখায় চাকরিকালীন সময়েও বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি তার কন্যার বিয়েতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার বেশি খরচ করেছেন এবং অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানান। এছাড়া, কালীগঞ্জ বাজারের ৩০টি পেরিফেরি ভুক্ত দোকানের ইজারা দেওয়ার নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এ অর্থ বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। নাগরিক নেতা ইদ্রিস আলী বলেন, একজন নাজির শাখার কর্মচারীর নামে এ ধরনের বিপুল সম্পদ ও অনিয়মের অভিযোগ প্রশাসনের জন্য গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব অভিযোগের বিষয়ে নাজির শাহাবুদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সব বিষয়ে অস্বীকার করেন।
আপনার মতামত লিখুন :