
দীর্ঘ ১৮ বছরের ভুয়া চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি জোরালো
স্টাফ রিপোর্টার:সাতক্ষীরা জেলায় জাল সনদে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত আমিরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। প্রথম পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযোগের গভীরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া ডিগ্রি ও মনগড়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে প্রায় ১৮ বছর ধরে চিকিৎসা সেবার নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে আসছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি যে ডিপ্লোমা ইন ইউনানী মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি ডিগ্রির কথা বলে থাকেন, সেটির কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ এখনও উপস্থাপন করতে পারেননি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সময়ের সাথে নিজেকে “বড় ডিগ্রিধারী চিকিৎসক” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন আমিরুল। বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তিনি নিজেকে বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির সদস্য দাবি করলেও সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন এই সদস্যপদ কি তাকে “ডাক্তার” পরিচয় ব্যবহারের আইনি বৈধতা দেয়?
অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেছেন, তিনি সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিস-এ ২১ দিনের একটি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদি কোনো প্রশিক্ষণ একজন ব্যক্তিকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় ব্যবহারের অধিকার দেয় না।
এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি খুলনা ইউনানী মেডিকেল কলেজের সনদের কথা পুনরায় উল্লেখ করলেও প্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপনের আগেই আলাপচারিতা বন্ধ করে দেন।
জেলার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বিষয়টি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক মন্তব্য না করে পরে জানার কথা জানান। অন্যদিকে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করা হবে।
স্থানীয় পর্যায়ে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী মহলকে “ম্যানেজ” করে জেলায় একাধিক হাতুড়ে চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এ অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি, তবুও বিষয়টি জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে কাজ করা স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে ভুয়া সনদে চিকিৎসা কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি। দীর্ঘদিন প্রশাসনের নজরের বাইরে থাকা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত। দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের প্রতারণা আরও বাড়বে
তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হবে এবং দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবা এমন একটি খাত যেখানে সামান্য অবহেলাও মানুষের জীবনঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই জাল সনদ বা ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম কোনোভাবেই সহনীয় নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করলে একদিকে যেমন ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাবেন, অন্যদিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :