সামেক হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট জাহাঙ্গীরের অবৈধ কোটি কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান, দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন /
সামেক হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট জাহাঙ্গীরের অবৈধ কোটি কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান, দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক: বর্তমান সাতক্ষীরার অনুসন্ধানে সাতক্ষীরা মেডিকেলের টেকনোলজিষ্ট শেখ জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এযেন আলাদ্দিনের চেরাগ। জ্ঞাত আয় বর্হিভূত কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যাওয়া জাহাঙ্গীর এখন মেডিকেল সেক্টরের আতঙ্ক। অঢেল টাকা ছড়িয়ে তিনি নীতি ভ্রষ্ট, লেবাজধারী ও অর্থলোভী কিছু রাজনৈতিক নেতাকে কাজে লাগিয়ে জেলার কালিগঞ্জ, নলতাসহ বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধ পন্থায় কিছু অবৈধ ক্লিনিক পরিচালনা করেন। কেউ প্রতিবাদ করলে থানা পুলিশ, এমনকি বিচার বিভাগেও ফোন করিয়ে চাঁপ প্রয়োগ করান জাহাঙ্গীর।
সূত্র জানায়, পুরাতন সাতক্ষীরা ৫৭ প্লটে জমি কিনে কোটি টাকার বিলাশ বহুল বাড়ি নির্মাণ করছে। কাটিয়া লস্করপাড়া এলাকায় (এসপি গোল্ডেন) এর বাড়ির সামনে তার নামীয় একটি প্রাচীর ঘেরা জমি আছে, যেখানে আম বাগান করেছে জাহাঙ্গীর। গ্রামে পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের বাড়ি করেছেন যার চারদিকের রাস্তা ঢালাই করা এবং পুকুর পাড় বাঁধানো। শহরের ও কালিগঞ্জ ছনকা গনপতি গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় নিজ নামে পরিবারের নামে মূল্যবান জমি ক্রয় করেছে। কালিগঞ্জের নাজিমগঞ্জ বাজারে অত্যাধুনি কয়েকটি দোকান রয়েছে জাহাঙ্গীরের। বড় ভাই ও মেঝো ভাইকে গাড়ি কিনে দিয়েছেন এবং বড় ভাইকে টাইলস করা পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের বাড়ি করে দিয়েছে জাহাঙ্গীর। লাইফ কেয়ার হাসপাতাল জাহাঙ্গীর তার বড় ভাইয়ের নামে পরিচালনা করেন। বড় ভাইকে ব্যবহার করে তিনি এটি টিকিয়ে রেখেছেন। এত অল্পদিনে সরকারি চাকুরির সুবাদে জাহাঙ্গীর অবৈধ অর্থে সম্পদের মালিক বনে গেছেন। তার আয়ের সাথে তার এই অঢেল সম্পদের কোন মিল নেই। দুদক তদন্ত করলে তার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান মিলবে।
প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে কালিগঞ্জ পাউখালীতে গড়ে তুলেছে লাইসেন্স বিহীন লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতাল। যেখানে বিভিন্ন সময় ভূল চিকিৎসায় রোগীরা পঙ্গুত্বসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছে। এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নেই পরিবেশের লাইসেন্স, নাই ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স। ক্লিনিক পরিচালনাকারীদের একজন জাহাঙ্গীর হোসেন কাউকে পরওয়া করেননা। মানুষ মারার কারখানা হিসাবে পরিচিত জাহাঙ্গীর আলম পরিচালিত লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতাল। এসব ঘটনায় একাধিকবার ওই অবৈধ হাসপাতাল ভাংচুরও করেছে সাধারন জনগণ।
এদিকে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন যুবলীগ নেতা নাজমুলের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তাকে দিয়েই হাসপাতাল চালাতেন।
সূত্র আরো জানায়, জাহাঙ্গীর আলম ২০০৬ সালে  শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ চাকরি জীবন শুরু করেন। ২০১১ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত খুলনায় শেখ আবু নাসের চাকরি করেন। আবু নাসের হাসপাতালে চাকরি জীবনে অনিয়ম দুর্নীতির  যাত্রা শুরু করেছে। তারপর থেকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অনিয়মের ১ বছর পূর্ণ না হতে বদলি করা হয় খুলনা ডুমুরিয়া হাসপাতালে। সেখানে অল্পকিছুদিন থেকে টিবি হাসপাতালে বদলি হয়। তদবির করে বদলি হন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে।
২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল দীর্ঘ ৮ বছরে জাহাঙ্গীর গড়ে তোলেন সদর হাসাপাতালের অনিয়মের সাম্রাজ্য। বিভিন্ন পরীক্ষার টাকা আত্মসাৎ করে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা না দিয়ে কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ল্যাব সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করত জাহাঙ্গীর। ২০২১ সালে কৌশলে বদলি হন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। জাহাঙ্গীর আলম সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলির সময়কালে মেডিকেল কলেজ ছিল দুর্নীতির আখড়া।
সেইসময়  পরীক্ষা নিরীক্ষা এক তৃতীয়াংশ টাকা জমা হত না সরকারি কোষাগারে। মেডিকেল হাসপাতালের আয়ের অধিকাংশ টাকা পর্যায়ক্রমে ভাগ হতো। ল্যাব সেক্টরে দায়িত্বে ছিল জাহাঙ্গীর। নামমাত্র কিছু টাকা বাৎসরিক সরকারি কোষাগারে জমা দিতেন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক্্ররে ও সিটি স্ক্যান বিভাগের সরকারি রাজস্ব (টাকা) আত্নস্বাত ও নিজের মালিকানাধীন লাইসেন্স বিহীন অবৈধ ক্লিনিক পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। পাহাড়সম অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে আইনের কোন তোয়াক্কা করেননা তিনি।
এদিকে, নলতা লাইফ কেয়ার হাসপাতালে কর্মরত কেয়া নামের এক স্বামী পরিত্যাক্তা মেয়ের সাথে অবৈধভাবে মেলামেশার সময় জনগণ তাদের আটক করে বিয়ে দিয়ে দেয়। পরে কেয়াকে নিয়ে জাহাঙ্গীর নলতা রওশ শরীফ মাজারের পাশের একটি দোতলা বিল্ডিংয়ে ভাড়া থাকেন।
এব্যাপারে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (রেডিওলজী) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আপনারা যা পারেন লেখেন। আমার জায়গা (স্বাস্থ্য বিভাগ) ঠিক থাকলে দু’একটা পত্রিকায় লিখে আমার কিছু হবে না।
জাহাঙ্গীর আলম সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (রেডিওলজী) পদে চাকরি করার সুবাদে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে তুলেছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ। সরকারি চাকরির অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি।
এব্যাপারে সাতক্ষীরার সচেতন মহল শেখ জাহাঙ্গীর আলম এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।