বিএনপি নেতা পরিচয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের  জিম্মির চেষ্টা আলোচিত সফির    


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন /
বিএনপি নেতা পরিচয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের  জিম্মির চেষ্টা আলোচিত সফির    
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক:নিজেকে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি’র বড় নেতা ও একজন পুলিশের ডিআইজি ও  সচিবের নিকট আত্নীয় পরিচয়ে তার নাম ভাঙ্গিয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (১) মো: আশরাফুল আলমকে জিম্মি করে একটি প্রত্যয়ন নিয়েছেন সাতক্ষীরার আলোচিত এফ সফি। সম্প্রতি তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরে একই ভাবে একটি প্রত্যয়ন নিতে গেলে অফিস কর্তৃপক্ষ ঘাড় ধরে বের করে দেয়। সেখানেও পুলিশের ডিআইজি ও  সচিবের নাম ব্যবহার করেছিলো সফি। কর্তৃপক্ষে বুদ্ধিমত্তায় তার এই প্রতারকের হাত থেকে রেহাই পায়।
এব্যাপারে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (১) মো: আশরাফুল আলম জানান, তিনি এলটিএম এর একজন লাইসেন্সধারী। সেজন্য প্রত্যয়ন দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বিগত ৫ বছরে কোন কাজ করেননি/পাননি পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে। আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি প্রত্যয়ন কি কাজে ব্যবহার করেছেন। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা তালায় বাড়ি এক জন ডিআইজি ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজি করতো। অবশ্য ৫আগষ্ট’ ২৪ এর পরে এই দু’জনের নাম ব্যাবহার করছে না বলে জানা গেছে। এখন সাতক্ষীরার একজন সচিবের নিকট আত্নীয় পরিচয়ে চলাচ্ছে তার চাঁদাবাজী। বিগত ৫ বছরে কোন কাজ না পেয়েও বড় মাপের ঠিকাদার হিসাবে প্রত্যয়ন দিতে বাধ্য করিয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলীকে।
এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) একজন কর্মকর্তারা বলেন, আমাদের বক্তব্য লেখার দরকার নেই। যা দেখছেন তাই লেখেন। আমরা বিপদে আছি।
বিগত ৫ বছরে নিজের লাইসেন্সে কোন কাজ না পেয়েও নিজেকে বড় মাপের ঠিকাদার পরিচয় দেন সাতক্ষীরা শহরের আলোচিত সমালোচিত বহু অপকর্মের হোতা সফিউর রহমান সফি সফি। তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি ও ঠিকাদার পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়ান। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ও২ কর্তৃপক্ষ তার লাইসেন্সে কাজ না করার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, দু’ বছর আগেও সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা সাতক্ষীরার আলোচিত সফিউর রহমান সফি এবার ভোল পাল্টে বিএনপি’তে ঠাঁই পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি’র মূল ধারার নেতারা জানিয়েছেন সফি নামের তাদের কোন নেতা বা কর্মী নেই। মিথ্যা পরিচয় দিলে পুলিশে দেওয়ার পরামর্শ দেন দলটির জেলা পর্যায়ে শীর্ষ নেতারা।
গত ১৫ বছরে আওয়ামী সরকারের সুযোগ সুবিধা ভোগ করে এবার একই পন্থায় বিএনপিতে যোগ দিয়ে নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে চান সফি। তিনি সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামীলীগের সহসাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকার সফিউর রহমান সফি একসময়ে ঠিকাদারি করলেও লাইসেন্স বাতিল ও বিভিন্ন কারনে তিনি দলীয় লেবাজ লাগিয়ে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সাতক্ষীরা তালায় বাড়ি একজন ডিআইজি ও অপর একজন সংসদ সচিবালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে কাজে লাগিয়ে জেলা ব্যাপি চাঁদাবাজীতে জড়িয়ে পড়েন, গড়ে তোলেন একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট।
সূত্র আরো জানায়, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে  ২ লাখ ও ১ লাখ করে দুটি স্লিপে মোট ৩ লাখ টাকা সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখায় মেসার্স শফি এন্টারপ্রাইজ নামের একাউন্টে জমা করা হয়েছে। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন এর কাছ থেকে চাঁদা হিসাবে টাকা নিয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র আরো জানায়, সফি’র নির্দিষ্ট কোন পেশা নেই। দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে ভূয়া অভিযোগ করে ও মিথ্যা মামলা করে বিভিন্ন সরকারি অফিসার ও ঠিকাদারদের বেকায়দায় ফেলে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া সফি মূল পেশা।
সম্প্রতি সফি ও তার লোকজন ইটাগাছা এলাকায় দেদারছে চাঁদাবাজি করছে। তার বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ রয়েছে। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। এদিকে, এবি ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখার ঋণ খেলাপি ব্যক্তি সফিউর রহমান সফি। ব্যাংক তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে যা চলমান আছে।
আলোচিত সফি’র বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করেছে পুলিশ। এলাকাবাসীর লিখিত গণঅভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাতক্ষীরা সদর সার্কেল আলোচিত সফি’র বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করেছেন। অপরদিকে, ৫আগষ্ট’২৪ এর পরে সফির নামে হওয়া একটি হত্যা মামলা তদন্ত করছে পিবিআই। যার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে দাখিল হবে বলে জানা গেছে।
এব্যাপারে সফিউর রহমান সফি বলেন, আমার নামে নিউজ করলে মামলা করবো।