
বিশেষ সংবাদদাতা:ভুয়া ডিগ্রি ও জাল নথি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে পল্লী চিকিৎসক আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি দাবি করে আসছেন যে বাংলাদেশ ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক বোর্ড, ঢাকা’র অধীনে খুলনা ইউনানী মেডিকেল কলেজ থেকে ডিপ্লোমা ইন ইউনানী মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার প্রদত্ত রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৪২৩/২০০৫-২০০৬ যা সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে সম্পূর্ণ ভুয়া ও মনগড়া বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগে বলা হয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ডিগ্রিধারী পরিচয় ব্যবহার করে বছরের পর বছর চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন তিনি। সময়ের সাথে নিজেকে বড় ডিগ্রিধারী চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি বিপুল সম্পদও গড়ে তুলেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।নিজেকে আড়াল করতে তিনি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ান বলেও অভিযোগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির কুলিয়া ইউনিয়ন শাখার সদস্য (সদস্য নং-১৩৪১) হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। এছাড়া ২০২০ সালে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের অধীনে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণের একটি সনদ থাকলেও সেটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১৮ বছর ধরে চিকিৎসা সেবার নামে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিজেকে রক্ষা করতে রিপোর্টার্স ক্লাবের ব্যানারে একটি প্রতিবাদ বিবৃতি দেওয়া হয়, যা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন।অভিযোগের বিষয়ে কথিত ডাক্তার আমিরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদক কে বলেন, আমি ২১ দিনের সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসে ট্রেনিং করেছি। অপর একটি প্রশ্নে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়- তিনি ২১ দিনের ট্রেনিংয়ে কি ডাক্তার লিখতে পারেন? এই প্রশ্ন ছুড়ে দিলে তার প্রতি উত্তরে তিনি খুলনা ইউনানী মেডিকেল কলেজ থেকে স্বীকৃত সনদের কথা বলেন। পরবর্তীতে তড়িঘড়ি করে আলাপ কলটি বিচ্ছিন্ন করেন।সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার এই সম্পর্কে জানতে হবে। আপনি বললেন আমি হুট করে বক্তব্য দিতে পারি না। ঠিক আছে ভালো থাকবেন। বলে তড়িঘড়ি করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। আবার অনেকে দাবি করছেন- সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কে ম্যানেজ করে জেলা জুড়ে এই সকল হাতুড়ি ডাক্তাররা অবৈধভাবে তাদের এই কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন।দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: সাইফুল ইসলামের নিকট পাইলস্ ডক্টর চেম্বার বিষয়ে কথা হলে তিনি আশ্বস্ত করেন আগামীকাল আমি ওইখানে যাবো। সম্ভবত এই নামে কোন রেজিস্ট্রেশন নেই। বিষয়টি শুনেছি ব্যবস্থা নিবো।এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাবেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধ করা সম্ভব হবে।
আপনার মতামত লিখুন :