
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক:পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে না হতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে সিন্ডিকেট চক্র এমন অভিযোগ উঠেছে ক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। প্রতি বছরের মতো এবারও রমজানকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির পুরনো কৌশল নতুনভাবে দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।গত রমজানেও একই চিত্র দেখা গিয়েছিল। ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, খেজুর ও ডালের বাজারে অস্বাভাবিক দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। সে সময় বাজার তদারকিতে নামে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন। কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও বাজারে স্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অভিযোগ ছিল, পাইকারি পর্যায়ের অদৃশ্য সমন্বয়েই খুচরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।এছাড়া গত বছর রমজানের আগে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিল ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। টিসিবির বাজার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা যায়, আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে ঘাটতি না থাকলেও খুচরা পর্যায়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। অর্থাৎ সরবরাহ সংকট নয়, বরং মধ্যস্বত্বভোগী ও মজুতদারদের কারসাজিই ছিল মূল কারণ এমন বিশ্লেষণ উঠে আসে বিভিন্ন অর্থনীতিবিদের বক্তব্যে।আজ(১৭ ফেব্রুয়ারি)সাতক্ষীরার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু না হলেও কয়েকটি পণ্যের দাম ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা ডলার সংকট, আমদানি খরচ ও পরিবহন ব্যয়ের অজুহাত দিলেও ক্রেতারা বলছেন প্রতি বছর একই গল্প শোনানো হয়, কিন্তু রমজান এলেই দাম বাড়ে, আর ঈদের পর ধীরে ধীরে কমে।অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারি না থাকলে এবং পাইকারি পর্যায়ের গোপন সমন্বয় ভাঙতে না পারলে খুচরা অভিযান কেবল ‘দৃষ্টান্তমূলক’ হয়, টেকসই সমাধান আসে না। গত রমজানে জরিমানার পরও অনেক প্রতিষ্ঠান কয়েকদিন বন্ধ রেখে আবার একইভাবে ব্যবসা শুরু করে, এমন নজির রয়েছে।প্রশ্ন উঠেছে প্রতি বছর একই চিত্র কেন? আগাম গোয়েন্দা নজরদারি, মজুত তালিকা যাচাই এবং পাইকারি আড়ত পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে কি সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব?ভোক্তাদের দাবি, রমজানকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে যারা অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে, তাদের বিরুদ্ধে শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত নয়, নিয়মিত তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় ‘রমজান এলেই দাম বাড়ে’এই অঘোষিত নিয়মই যেন বাজারের চূড়ান্ত সত্য হয়ে দাঁড়াবে।এবিষয়ে সাতক্ষীরা ভোক্তা অধিকারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :