
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক:শ্যামনগর মুক্তিযোদ্ধা সড়কে অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক হিসেবে পরিচিত গ্রাম্য হাতুড়ে চিকিৎসক দিপুর বিরুদ্ধে উঠেছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা না করে অপ্রাসঙ্গিক ও অতিরিক্ত টেস্ট লিখে দিয়ে রোগীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে; ভুল রিপোর্টের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।ভুক্তভোগী রহিম জানান, কিডনি পরীক্ষা (Serum Creatinine) করতে গেলে হার্টের সমস্যার কথা বলে অতিরিক্ত পরীক্ষা করানো হয়; TSH পরীক্ষায়ও ভিন্ন অঙ্গের সমস্যা দেখিয়ে নতুন নতুন টেস্টের পরামর্শ দেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য,এভাবে মানুষকে একের পর এক অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষায় ঠেলে দিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক, প্যাথলজিস্ট বা প্রশিক্ষিত নার্স। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, জরুরি ব্যবস্থাপনা, ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্রেরও প্রমাণ মেলেনি বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। আরও অভিযোগ—প্যাথলজিস্ট না থাকলেও রিপোর্টে প্যাথলজিস্টের সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করা হচ্ছে, যা জালিয়াতির শামিল।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি হাসপাতালের পরীক্ষার দুর্নাম ছড়িয়ে দালালচক্রের মাধ্যমে রোগী ভেড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। যেসব পরীক্ষা এখানে হয় না, সেগুলো সাতক্ষীরার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে কমিশনভিত্তিক চুক্তিতে করানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত দিপু সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপকে তোয়াক্কা করেন না এমন দাবি অভিযোগকারীদের।এদিকে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা The Medical and Dental Council Act, 2010 অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নিবন্ধিত চিকিৎসক বা প্যাথলজিস্ট ছাড়া পরীক্ষা-রিপোর্ট প্রদান Bangladesh Medical and Dental Council (BMDC) বিধিমালার পরিপন্থী। বৈধ লাইসেন্স ও নির্ধারিত মানদণ্ড ছাড়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা The Private Clinics and Laboratories (Regulation) Ordinance, 1982 অনুযায়ী দণ্ডনীয়; প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল ও প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা যেতে পারে।এছাড়া Penal Code, 1860–এর ৪২০ ধারায় প্রতারণা, ৪৬৮/৪৭১ ধারায় জাল সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার এবং ৩০৪এ ধারায় অবহেলায় মৃত্যুর কারণ হলে ফৌজদারি দায় প্রযোজ্য হতে পারে। ভ্রান্ত বা প্রতারণামূলক সেবার ক্ষেত্রে Consumer Rights Protection Act, 2009 অনুযায়ী জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ফায়ার লাইসেন্স ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা Fire Prevention and Extinguishing Act, 2003 অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে এটি কেবল প্রশাসনিক অনিয়ম নয় জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে শ্যামনগরে ‘ভুল রিপোর্টের কারখানা’ আরও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।এসব বিষয়ে সাতক্ষীরা সিভিলসার্জনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এসব অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হবে আপনারা রিপোর্ট করেন আমরা এরা সিলগালা করে দেব।
আপনার মতামত লিখুন :