পাইকগাছা-যশোর রুটে পরিবহন সিন্ডিকেটের ‘অঘোষিত অবরোধ’ জিম্মি লাখো মানুষ


News Desk (s) প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ন /
পাইকগাছা-যশোর রুটে পরিবহন সিন্ডিকেটের ‘অঘোষিত অবরোধ’ জিম্মি লাখো মানুষ

শাহরিয়ার কবির,পাইকগাছা,খুলনা: খুলনার পাইকগাছা থেকে যশোর জেলা শহরে সরাসরি বিআরটিসি ও লোকাল বাস চলাচল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। আর এ বন্ধের নেপথ্যে প্রভাবশালী পরিবহন সিন্ডিকেটের অঘোষিত অবরোধ—এমন অভিযোগ এখন সর্বত্র। ফলে প্রশাসনিক, শিক্ষাগত ও চিকিৎসাসহ জরুরি সেবায় যেতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র যশোর। এখানেই অবস্থিত অঞ্চলের একমাত্র সচল বিমানবন্দর যশোর বিমানবন্দর। খুলনা বিভাগের মানুষের আকাশপথে যোগাযোগের প্রধান ভরসা এই বিমানবন্দর। অথচ পাইকগাছা থেকে সেখানে পৌঁছাতে নেই কোনো সরাসরি বাস। যাত্রীদের খুলনা বা সাতক্ষীরা হয়ে ঘুরপথে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে যেতে হচ্ছে। অনেকেই ফ্লাইট ধরতে গিয়ে পড়ছেন সীমাহীন ভোগান্তিতে।
শুধু বিমানবন্দরই নয়, যশোরে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অফিসে গাড়ির ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন ও নম্বরপ্লেট সংক্রান্ত কাজে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। একইভাবে যশোর শিক্ষা বোর্ড-এ পরীক্ষার খাতা আনা-নেওয়া, এসএসসি-এইচএসসি সনদ উত্তোলন ও সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের নিয়মিত যেতে হয়। কিন্তু সরাসরি পরিবহন না থাকায় দুর্ভোগ এখন নিত্যদিনের সঙ্গী।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আশির দশকে কপিলমুনি-যশোর রুটে সরাসরি বাস চলাচল ছিল। পরে রহস্যজনকভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রুটটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, নতুন কোনো বাস নামানোর চেষ্টা হলেই সিন্ডিকেটের বাধা আসে সামনে।
স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের ভাষ্য, “এই রুটে বাস চালু হলে নির্দিষ্ট কয়েকটি পরিবহনের আয় কমবে—এ কারণেই পরিকল্পিতভাবে রুটটি বন্ধ রাখা হয়েছে।”
সচেতন মহলের মতে, এটি কেবল পরিবহন সংকট নয়, এটি জনগণের চলাচলের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করার সামিল। একটি জনবহুল উপজেলা হয়েও পাইকগাছার মানুষকে আজও ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে—এ যেন উন্নয়নের যুগে এক বেদনাদায়ক ব্যঙ্গচিত্র।
পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট এফ এম এ রাজ্জাক বলেন,পাইকগাছা-কপিলমুনি-যশোর রুটে বিআরটিসি অনুমোদিত বাস চালু হলে যশোর বিমানবন্দর ব্যবহার সহজ হবে, প্রশাসনিক ও শিক্ষাসেবা দ্রুত পাওয়া যাবে এবং অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল কমে আসবে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কার স্বার্থে এই অচলাবস্থা? কেন একটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে গণপরিবহন চলবে না? অবিলম্বে সিন্ডিকেটের প্রভাবমুক্ত হয়ে পাইকগাছা-যশোর রুটে নিয়মিত বিআরটিসি ও লোকাল বাস সার্ভিস চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনদুর্ভোগ লাঘবে কতটা কার্যকর ভূমিকা নেয়।