সিলগালা ভেঙে ফের চালু শ্যামনগরের ‘আনিকা’ ক্লিনিক-রাজনৈতিক শক্তি ও মোটা অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগ!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৫, ২০২৬, ২:১৩ পূর্বাহ্ন /
সিলগালা ভেঙে ফের চালু শ্যামনগরের ‘আনিকা’ ক্লিনিক-রাজনৈতিক শক্তি ও মোটা অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগ!
বিশেষ প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্বাস্থ্য বিভাগের সিলগালা করা অবৈধ আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার পুনরায় চালুর অভিযোগ উঠেছে ও আইনের শাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে শ্যামনগরের আনিকা ক্লিনিকটি পুনরায় চালুর পেছনে রাজনৈতিক শক্তি ও মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ক্লিনিকটির সিলগালা রাজনৈতিক শক্তির জোরে পুনরায় কার্যক্রম চালুর তথ্য স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়ায় বিষয়টি সরাসরি আইন লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়েছে।স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি,শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত মেডিকেল অফিসার ,আনিকা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী ডা. মোঃ আনিছুর রহমান আনিস প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সহায়তায় এবং মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ক্লিনিকটি পুনরায় চালুর করা হয়েছে। যদিও এই লেনদেনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি, তবে বিষয়টি প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জোরালো করেছে।আইন অনুযায়ী,বেসরকারি ক্লিনিক পরিচালনার জন্য সিভিল সার্জন কর্তৃক বৈধ লাইসেন্স ও পরিবেশের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একই সঙ্গে সিলগালা করা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা অমান্যের শামিল, যা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।এর আগে পরিচালিত অভিযানে ক্লিনিকটিতে একাধিক গুরুতর অনিয়ম উঠে আসে। এর মধ্যে ছিল লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম, এনেস্থেসিয়া  ছাড়াই অস্ত্রোপচার, অদক্ষ জনবল দিয়ে চিকিৎসা প্রদান এবং বিষপান করা এক রোগীকে সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে  ফুসলিয়ে আনিকা ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে যথাযথ চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর রোগীর মৃত্যু ঘটে। কিন্তু বিষয়টি গোপন রেখে রোগীকে “আশঙ্কাজনক” বলে দ্রুত সদর হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে এম্বুলেন্সে তুলে ক্লিনিক ত্যাগ করা হয়। পরে পথেই রোগী মৃত ঘোষণা করা হলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনা জানাজানি হলে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আঃ সালাম তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।  অভিযানে রোগীর মৃত্যুসহ একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর  আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে সিলগালা করা হয়।কিন্তু পরবর্তীতে একই ক্লিনিক পুনরায় চালুর ঘটনা প্রশাসনিক তৎপরতা ও নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগীরা। সিলগালা অবস্থার একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে আবার কার্যক্রমে ফিরলো এবং সেই প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত—তা এখনো স্পষ্ট নয়।ক্লিনিকটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন সরকারি কর্মরত চিকিৎসক হওয়ায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। সরকারি দায়িত্বে থেকে অবৈধভাবে বেসরকারি ক্লিনিক পরিচালনা এবং সিলগালার পরও অবৈধভাবে খোলার অভিযোগে,সরকারি চাকরি বিধিমালা ও স্বাস্থ্যখাতের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর সম্ভাব্য লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।শ্যামনগরে একাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ঘিরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী স্থানান্তর করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নেওয়া এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। আনিকা ক্লিনিককে সেই চক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—প্রশাসনের সিলগালা আদেশ অমান্য করে একটি অবৈধ প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হওয়ার পেছনে কারা জড়িত, এবং সেখানে কোনো আর্থিক লেনদেন বা প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা রয়েছে কিনা।এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অবিলম্বে পুনরায় অভিযান পরিচালনা, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটনের দাবি জোরালো হয়েছে। আনিকা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী ডা. মোঃ আনিছুর রহমান আনিসের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ক্ষমতা আছে ক্লিনিক খুলেছে পারলে কিছু করেন বলে মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন ডা: মোঃ আঃ: সালাম আনিকা ক্লিনিক খোলার বিষয়ে  একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।