* নিম্ন মানের খাদ্য ব্রান্ডের বস্তায় ভরে বিক্রি।
* কালিগঞ্জে নকল ওষুধ গোপন আস্থনায় তৈরি।
* চেক স্ট্যাপ জমির দলিল নিয়ে অনেকের জমি আত্মসাৎ ।
* ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর কবির মনিরুল পালিয়ে রক্ষা নেই।
নিজস্ব প্রতিবেদক : কালিগঞ্জে নকল ফিড ব্যবসায়ী জিম পোল্ট্রি ফিডের পরিচালক আব্দুল বারীর জালে নিঃস্ব হয়ে এলাকাছেড়ে পালিয়েছে বহু খুচরা ব্যবসায়ী আর খামারিরা। ফাকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আর ব্লাঙ্ক চেকে নিয়ে নকল ফিড দেন খুচরা ব্যবসায়ীদের । বারি নকল ফিড আর নকল ওষুধে মুরগির গ্রোথ না বেড়ে ভাইরাসে মারা যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যবাায়ীরা। লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যবসায় লোকসানে খেয়ে শেষ সম্বল ভিটা ভাড়ী বিক্রি করে বারির টাকা পরিশোধ করা লাগে। টাকা না দিলে বারির সন্ত্রাশী বাহিনী কৃষ্ণনগরের গোপন আস্থানায় তুলে নিয়ে মারধর করে পরে টাকা দিলে ছেড়ে দেওয়া। নকল ফিড নকল ওষুধে লোকসানে খেয়ে শ্যামনগরের মনিরুল এখন পালিয়ে সাতক্ষীরা শহরে ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে।
সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, নিম্ন মানের অপুষ্টিকর খাদ্য ব্রান্ডের বস্তায় ভরে খামারিদের কাছে বিক্রি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়া কালিগঞ্জের গোপন আস্তানায় নকল ওষুধ তৈরি করে খামরিদের সরবরাহ করছে সেটা খেয়ে পোল্ট্রি মারা যাচ্ছে লোকসান খাচ্ছে খামারিরার লাভবান হচ্ছে বারি।যার ফলে শত শত খামারি পোল্ট্রি চাষে লোকসান খেয়ে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে অনেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। অনেকে টাকা পরিশোধ না করতে পেরে কমদামে আব্দুল বারীর কাছে জমি লিখে দিতে বাধ্য হয়েছে।
ব্যবসায়ী আব্দুল বারী একজন ভয়ংকর মানুষ। সে কম দামে কিনে চড়া দামে খুচরা ব্যবসায়ী ও খামারিদের কাছে পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য বিক্রি করে। বারির প্রভোলনে পড়ে অনেক খুচরা ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়েছে। ব্যবসায় লোকসান আর বারীর দেনার টাকা পরিশোধ না করতে পেরে ২০ থেকে ৩০ জন খুচরা ব্যবসায়ী ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে। ব্যবসা লোকসানের আসল কারণ খুঁজতে দেখা যায় বারী একটি সুনামধন্য ফিড প্রতিষ্ঠানের ডিলারশীপ নিয়েছে। কিন্তু সেই ব্রান্ডভ্যেলুকে পুঁজি করে নিম্ন মানের খাদ্য বস্তায় ভরে বিক্রি করে আসছে। এসকল নিম্ন মানের খাদ্য পুষ্টিমান ঠিক না থাকায় মাছে ও পোল্ট্রির গ্রোথ বাড়ছে না খামারিরা লোকসান খাচ্ছে। খরচের চেয়ে কমদামে পোল্ট্রি বিক্রি করতে হচ্ছে অনেক খামারি শুরুতে বাচ্চা মরে যাচ্ছে নিম্ন মানেী ফিড খেয়ে। বারী খামরিদের বাকির আড়ালে তাদের থেকে আইন বহিভূত ফাকা (বেলাইন) চেক স্ট্যাম্প জমির দলিল বন্ধক হিসাবে রাখছে। যে খামারি ও খুচরা ব্যবসায়ী লোকসান খেয়ে টাকা দিতে পারছে না তার নামে আদালতে মামলা করে হয়রানি করছে।অনেকের থেকে টাকা পরিশোধ না করতে পারায় বাস্তুভিটাও লিখে নিচ্ছে। বারীর ভয়ে এসকল অবৈধ কর্মকান্ডে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মারপিট করছে তার পালিত সন্ত্রাশী বাহিনী। এভাবে দুই উপজেলার ব্যবসায়ী ও খামারিদের জিম্মি করে চলছে বারির রাম রাজত্ব।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী কালিগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের দলিল উদ্দীন গাজীর ছেলে ফিড্ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর কবিরের পাওনা টাকা পরিষদের পরও ব্যবসায়ীক লেনদেনে প্রদান করা চেক ফেরত না দিয়ে শেখ আব্দুল বারী কবির এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, হয়রানী করেছে। ব্যবসায়িক লেনদেনে এক পর্যায় জাহাঙ্গীরের কাছে ৩০ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওনা হয়।
সেটি ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক কৃষ্ণনগর শাখার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে আব্দুল বারীকে পরিশোধ করেন। কিন্তু ব্যবসায়ীক শর্তে তার দেওয়া পৃথক দুটি চেকের পাতা আব্দুল বারীর কাছে ফেরত চাইলে তিনি না দিয়ে ডিজঅনার করায় এবং মামলা দায়ের করে তাকে ভিটেমাটি ছাড়া করার হুমকী দেন। এরপরেও ধুরন্ধর আব্দুল বারী শুধুমাত্র ব্যবসায়ীক শত্রুতাবশত হয়রানী করতে তার (করিব) বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় একটি মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মধ্যস্ততায় বিষয়টি নিয়ে বসাবসি হলে সেখানেও প্রমান হয় যে, শেখ আব্দুল বারী তার নিকট কোনো টাকা পাবেনা।
ভুক্তভোগী শ্যামনগরের মনিরুল ইসলাম বলেন, বারীর প্রভোলনে পড়ে নকল ফিড আর নকল ওষধ নিয়ে খামার করে বাচ্চা মারা গেছে লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসান হয়েছে। টাকা পরিশোধ না করতে পারলে সে সন্ত্রাশী দিয়ে উঠিয় নিয়ে মারধর করে। বারির ভয়ে শ্যামনগর ছেড়ে পালিয়ে এসে সাতক্ষীরা শহরে ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি।
আরেকভুক্তভোগী মৌতলার গোবিন্দ মন্ডল বলেন, বারীর কাছ থেকে ফিড দফায় খামার করে ২০-৩০ লক্ষ টাকা লোকসান খেয়েছি। সে নিম্ন মানের খাদ্য দেয় পোল্ট্রি বাড়ে না গ্রোথ হয়না বিক্রিরচেয়ে দ্বিগুণ খরচ হয়। সে একজন বাটপারি।
অভিযুক্ত জিম পোল্ট্রি ফিডের মালিক শেখ আব্দুল বারী বলেন, জাহাঙ্গীর কবির যে অভিযোগ করেছে সেটা ভিত্তিহীন। স্থানীয় জামায়াতের কিছু নেতার ছত্রছায়ায় জাহাঙ্গীর আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।জামায়াতের নেতাকর্মীরা আমার ব্যবসা বন্ধ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। নিম্ন মানের খাদ্য প্যারাগন ফিডের বস্তায় ডুকিয়ে বিক্রির বিষয়ে বারী বলেন আপনি আমাকে নিউজ করে কিছু করতে পারবেন না। কোন প্রশাসন র ্যাব আমাকে কিছু করতে পারবে না আমি প্যারাগন ফিডের ডিলার৷ এমন নিউজ বহু হবে আমার কিছু করার ক্ষমতা নেই গণমাধ্যমের বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
আপনার মতামত লিখুন :