
বিশেষ প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বহুল অভিযোগে অভিযুক্ত আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সিভিল সার্জনের নির্দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ জিয়াউর রহমান এ অভিযান পরিচালনা করেন।অভিযানকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আর.এম.ও ডা. তারিকুল ইসলাম, ডা. সাকির রহমান এবং শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।ঘটনার সূত্রপাত ঘটে এক মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। বিষপান করা এক রোগীকে সরকারি হাসপাতালে প্রবেশের মুখে দালালচক্রের মাধ্যমে ফুসলিয়ে আনিকা ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে যথাযথ চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর রোগীর মৃত্যু ঘটে। কিন্তু বিষয়টি গোপন রেখে রোগীকে “আশঙ্কাজনক” বলে দ্রুত সদর হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে এম্বুলেন্সে তুলে ক্লিনিক ত্যাগ করা হয়। পরে পথেই রোগী মৃত ঘোষণা করা হলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনা জানাজানি হলে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আঃ সালাম তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। অভিযানে ক্লিনিকে ১২ জন রোগী পাওয়া যায়, যাদের অধিকাংশই সিজার রোগী। তাদের দ্রুত সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং উপস্থিত সবার সামনে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ চিত্র। চিকিৎসার নামে রোগীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দুর্ব্যবহার, এমনকি মারধরের ঘটনাও নিয়মিত ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মৃত রোগীকেও গোপনে সরিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা এখানে নতুন নয় বলেও জানা গেছে।অভিযোগ রয়েছে, মাত্র তিনজন অনভিজ্ঞ নার্স, দুইজন কেয়ারটেকার এবং একজন হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে পুরো ক্লিনিকটি পরিচালিত হচ্ছিল। গুরুতর অভিযোগ হিসেবে উঠে এসেছে এনেস্থেসিয়া ডাক্তার ছাড়াই অপারেশন পরিচালনা এবং গ্রাম্য অদক্ষ ডাক্তারদের দিয়ে এনেস্থেসিয়া ও এসিস্ট প্রয়োগের মতো জীবনঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—ক্লিনিকটির কোনো বৈধ লাইসেন্স ছিলনা। সিভিল সার্জন কর্তৃক অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি পরিবেশগত ছাড়পত্রও নেই বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশে গড়ে ওঠা একাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মিলেই একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। সরকারি হাসপাতাল থেকেই রোগী ভাগিয়ে এনে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হয়। এরপর শুরু হয় অর্থ বাণিজ্য।এই সিন্ডিকেটের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত আনিকা ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী ডা. মোঃ আনিছুর রহমান, যিনি নিজেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন কর্মরত মেডিকেল অফিসার। সরকারি দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত ক্লিনিক পরিচালনার বিষয়টি নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও একাধিকবার ক্লিনিকটি বন্ধ করা হলেও অজ্ঞাত শক্তির প্রভাবে আবার চালু হয়েছে। ফলে তারা আশঙ্কা করছেন, এবারও একই ঘটনা ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে প্রভাব খাটিয়ে এবং মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ক্লিনিকটি পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা: মো: আনিসুর রহমান আনিস কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সাতক্ষীরা জেলায় বহুৎ অবৈধ ক্লিনিক আছে তার যেভাবে চালায় আমরাও সেভাবে চালাব আপনারা পারলে নিউজ করে কিছু করেন। ক্ষমতা আছে পাওয়ার আছে ক্লিনিক আবার চালু করাবো দেখি কে কি করে। তিনি আরো অস্বীকার করে বলেন ক্লিনিক আমার আব্বার নামে। সিভিল সার্জন আমার আব্বার কাছে টাকা চেয়েছিল টাকা দেয়নি তাই ক্লিনিক বন্ধ করে দিছিল। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন . মোঃ আঃ সালাম কাছে এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমাদেরকে বলেন সবই মিথ্যা তার ক্লিনিকের রোগী মারা যাওয়া ঘটনা ঘটে এবং ক্লিনিকের কোন বৈধ লাইসেন্স ও পরিবেশের ছাড়পত্র না থাকায় আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়গনিক সেন্টার সিলগালা করা হয়েছিল। এদিকে এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি—এই “মৃত্যু ফাঁদ” যেন আর কখনো চালু না হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আপনার মতামত লিখুন :