
* ঘেরে বিষপ্রয়োগের পর হুমকি প্রদান
* রয়েছে নিজস্ব ডাকাত বাহিনী
* কিশোর গ্যাং দিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া
কালিগঞ্জ গোবিন্দকাটি থেকে ফিরে খান সবুজের বিশেষ প্রতিবেদন : কালিগঞ্জের গোবিন্দকাটিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে প্রিয়ংকর মণ্ডল। তার রয়েছে নিজস্ব বাহিনী, রাত হলে বিভিন্ন মৎস্যঘেরে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। তাছাড়া রয়েছে মাদকসেবনকারী কিশোর গ্যাং, যারা দিনের বেলায় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মহড়া দিয়ে জনসাধারণের মনে ভীতি প্রদর্শন করে। সম্প্রতি এক বিধবা নারীকে হুমকি প্রদান ও মৎস্যঘেরে বিষপ্রয়োগ করে সে আলোচনায় এসেছে।সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মৎস্যঘেরে মাছের খাদ্য দিয়ে বাড়িতে যান ইভা সরকার। পরবর্তী দিন সোমবার সকালে মৎস্যঘেরে গিয়ে দেখেন বিষপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং মাছ মরা অবস্থায় ভেসে আছে। ইভা সরকারের মৎস্যঘেরটি ছিল জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎস। দুষ্কৃতকারীরা তার জীবিকার প্রধান উৎসটি আজ ধ্বংস করে দিয়েছে।এমন ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, ইভা সরকারদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একটা সন্ত্রাসী মহল নির্যাতন করে আসছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইভা সরকারদের ৪ বিঘা জমি জবরদখল করে নেয়। ইভা সরকারের স্বামী নেই, পুত্রসন্তানও নেই এই দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এমনটাই করছে স্থানীয় একটি মহল। ইভা সরকার জীবননাশের ভয়ে গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি। তবে অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে একজন যুবলীগ নেতার নাম প্রিয়ংকর মণ্ডল। তার নেতৃত্বে বিগত দিনে জমি দখল ও মৎস্যঘেরে বিষপ্রয়োগ হয়েছে বলে এলাকাবাসী গোপন সূত্রে জানিয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোবিন্দকাটির এক ব্যক্তি গণমাধ্যমকে বলেন, ইভা সরকার একজন নিরীহ মানুষ। তার কোনো পুত্রসন্তান নেই, তিন কন্যা বিবাহিত। এই সরলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইভা সরকারের স্বামীর সাথে পূর্বশত্রুতার জের ধরে তাদের ওপর প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে যাচ্ছে। এখানে যুবলীগ নেতা প্রিয়ংকর এমন কাণ্ড ঘটাতে পারে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যক্তি বলেন, নিরীহ মানুষের প্রতি সবাই নির্যাতন করে। প্রিয়ংকর গং তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। তারা চায় ইভা সরকার এখানে বসবাস না করুক। একজন নিরীহ বিধবা নারীর প্রতি এমন নির্যাতন মেনে নেওয়া যায় না। দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনা হোক।ভুক্তভোগী কালিগঞ্জের গোবিন্দকাটির ইভা সরকার বলেন, “আমি মুখ খুলতে চাই না। আমাকে তাড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। আমি মুখ খুললে ওরা আমাকে মেরে ফেলতে পারে। আমার যে ক্ষতি করেছে, আমি ঈশ্বরের কাছে বিচার দিলাম।অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা প্রিয়ংকরের সাথে সরাসরি কালিগঞ্জ প্রতিনিধি সবুজ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে প্রিয়ংকর গণমাধ্যমকর্মীকে দেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
আপনার মতামত লিখুন :