​দরিদ্র তরুণীকে অন্তঃসত্ত্বা করে অর্থ দিয়ে মুখ বন্ধের অভিযোগ! নায়েব গগনকে রুখবে কে?


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ন /
​দরিদ্র তরুণীকে অন্তঃসত্ত্বা করে অর্থ দিয়ে মুখ বন্ধের অভিযোগ! নায়েব গগনকে রুখবে কে?

বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক : ঘুষ বাণিজ্য, নামজারি (খারিজ), খাস জমি ইজারায় অনিয়ম আর চরম হয়রানির অগণিত অভিযোগের পর এবার এক দরিদ্র তরুণীকে অনৈতিক সম্পর্কের জালে ফেলে অন্তঃসত্ত্বা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি নায়েব) গগন চন্দ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে। স্থানীয় এক  চিকিৎসকের  দাবি, বিষয়টি জানাজানি হলে পরে অর্থ ছড়িয়ে ঘটনাটি ধামাচাপ দেওয়া হয়।স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে পরিণত হয়। শ্যামনগরের স্থানীয় চিকিৎসক ডা. আজিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ওই এলাকার এক দরিদ্র তরুণীর  সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে তাঁকে অন্তঃসত্ত্বা করেন এই কর্মকর্তা। পরবর্তীতে অনৈতিক এই বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে গেলে মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে অসহায় পরিবারটিকে নিস্তব্ধ ও মুখ বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়।অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধিনিষেধের কোনো তোয়াক্কা না করে অবাধে ঘুষ লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছেন এই কর্মকর্তা। উর্ধ্বতন কতিপয় কর্মকর্তার সাথে সুসম্পর্কের সুবাদে তিনি বারবার সুবিধাজনক স্থানে বহাল থাকেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন।বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের বাসিন্দা মোস্তফা সরদার জানান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ও তদন্ত প্রতিবেদন তৈরিসহ যেকোনো সেবার জন্যই অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন নায়েব গগন। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয়। জমির মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে শতক প্রতি ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার নজির রয়েছে। এমনকি টাকা নিয়ে প্রকৃত মালিকের বিপক্ষে প্রতিবেদন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।অন্য এক সেবাগ্রহীতা কামরুল ইসলাম জানান, নামজারির আবেদন করার পর দীর্ঘদিন তাঁর ফাইল আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে ওই অফিসের ঝাড়ুদার ও কর্মকর্তাদের কথিত দালাল জিতেনের মাধ্যমে ৭ হাজার টাকা দেওয়ার পর কাজ সম্পন্ন হয়। একইভাবে সামাদ গাজী নামের আরেকজন জানান, মাত্র ১০০ টাকা ভূমি উন্নয়ন করের বিপরীতে তাঁর কাছ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দালাল ছাড়া সাধারণ মানুষ এই অফিসে কোনো সেবা পায় না।অনুসন্ধানে জানা যায়, গগন চন্দ্র মন্ডলের মূল বাড়ি কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামে। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান গগনের বাবা একসময় নদী থেকে মাছ ধরে সংসার চালাতেন। কিন্তু ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর রাতারাতি কোটিপতি বনে যান তিনি। বর্তমানে সাতক্ষীরা শহরের অভিজাত ‘রাজার বাগান’ এলাকায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের দু’তলা আলিশান বাড়িসহ নামে-বেনামে তাঁর প্রচুর জমিজমা রয়েছে। সরকারি চাকরির আয়কর নথি ও সম্পদ বিবরণীর সাথে তাঁর বর্তমান জীবনযাত্রার আকাশ-পাতাল গরমিল বিদ্যমান।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি পদে আসীন থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ঘুষের মাধ্যমে অঢেল সম্পদ অর্জন করা ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’-এর ২৭ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া সরকারি চাকরি শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অনৈতিক কাজ, ঘুষ গ্রহণ ও দালাল চক্র লালনের দায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে নায়েব গগনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে অত্যন্ত অশালীন আচরণ করেন এবং অসংলগ্ন মন্তব্য করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।এ বিষয়ে স্থানীয় নাগরিক নেতা ইদ্রিস আলী বলেন, একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির এসব অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সাথে তাঁর অঢেল সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।