সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব- মুরাদ-সুমি দম্পতির জাল দলিল ও অঢেল সম্পদের নতুন তথ্য ফাঁস!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ন /
সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব- মুরাদ-সুমি দম্পতির জাল দলিল ও অঢেল সম্পদের নতুন তথ্য ফাঁস!

বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক : ​সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্য এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। একের পর এক জালিয়াতি এবং বিপুল অবৈধ সম্পদের নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে এই অফিসের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।​আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) মুরাদ ও সুমি দম্পতির নতুন এক জাল দলিলের তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, লাখ টাকার বিনিময়ে জাল দলিল (নং ১৬২৩/০৭) তৈরি করে শ্রী রাজকুমার মাখামকে জমি রেজিস্ট্রি এবং পরবর্তীতে নামজারিও করিয়ে দেয় এই চক্র। অফিস সহায়ক পদের সামান্য বেতনে কীভাবে বিলাসবহুল জীবনযাপন সম্ভব, তা নিয়ে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ৮,৪০০ টাকা মূল বেতনের (বেসিক স্যালারি) চাকরি করে অফিস সহায়ক সুমি রসুলপুরে অঝোর ধারায় বিলাসবহুল বাড়ি সহ জমি কিনেছেন। শুধু তা-ই নয়, গত তিন বছরে স্বামী মুরাদকে ৮ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছেন তিনি। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন জনগণের পকেট কেটে ও দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত এই বিপুল অর্থের উৎস কী?সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিস যেন দুর্নীতির এক আঁতুড়ঘর। ঘুষ ছাড়া কোনো কালেই মিলত না কাঙ্ক্ষিত সেবা। সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে প্রভাবশালী সবাইকেই দিতে হতো ঘুষের টাকা।​অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ভূমি অফিসে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী ও অপ্রতিরোধ্য ঘুষের সিন্ডিকেট। মাঠপর্যায়ে এই সিন্ডিকেটের সমঝোতা ও লেনদেন পরিচালনা করত উপ-ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রনি কুমার পাল। এই চক্রের অধীনে সক্রিয় ছিল ৪ থেকে ৫টি দালাল সিন্ডিকেট, যারা সরাসরি নামজারি, খাজনা দাখিলা ও ঝামেলাপূর্ণ জমির খরিদ্দার ধরার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করত।সরেজমিনে অনুসন্ধানে এমন একটি দালাল চক্রের সন্ধান মিলেছে, যা পরিচালিত হতো ভূমি সহায়তা কেন্দ্রের মুরাদ ও অফিস সহায়ক সুমি দম্পতির মাধ্যমে। সুমি অফিস সহায়ক পদে থাকার সুযোগে এবং কর্তৃপক্ষের সাথে সুসম্পর্কের দোহাই দিয়ে তার স্বামী মুরাদ বড় বড় ফাইলের কারবার সামলাত। নামজারির জন্য মুরাদ সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে নিত ৭ হাজার টাকা এবং রিপোর্টের জন্য নিত ৪ হাজার টাকা। যার সিংহভাগই হাতিয়ে নিত এই মুরাদ-সুমি সিন্ডিকেট।​সম্প্রতি একটি দলিলের নামজারির জন্য মুরাদ-সুমি সিন্ডিকেট ৪৩,৫০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী সদরের বাকালের বাসিন্দা হানিফ সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন জানান। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ভূমি সহায়তা কেন্দ্রে মুরাদ একটি জমির নামজারি বাবদ ৪৩,৫০০ টাকা নিয়েও ভুল দাগ নম্বর দিয়ে নামজারি করে দেয়। পরবর্তীতে মুরাদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে সে টাকা দিতে অস্বীকার করে এবং জানায় যে টাকা বিভিন্ন জায়গায় ভাগ দেওয়া হয়েছে। শুধু হানিফ নয়, এই মুরাদ-সুমি চক্রের বিরুদ্ধে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার শতাধিক অভিযোগ রয়েছে। পূর্বেও তাদের বিরুদ্ধে ডজনখানেক অভিযোগ জমা পড়লেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।অন্য এক ভুক্তভোগী, সদরের ইটাগাছার বাসিন্দা মোক্তার রহমান বলেন, আমার একটি জমি নামজারির জন্য ভূমি সহায়তা কেন্দ্রের মুরাদ থেকে আবেদন করে জমা দিই। কিন্তু প্রথমে কাগজে ভুল দেখিয়ে নামজারি আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মুরাদ ১০ হাজার টাকা দাবি করে। তাকে ওই ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পর একই কাগজে নামজারি অনুমোদন দেওয়া হয়।​আরেক ভুক্তভোগী, শহরের চালতেতলার বাসিন্দা করিম গাইন জানান, “আমার একটি জমির রিপোর্টের জন্য অফিসে গেলে বারবার ঘুরানো হতে থাকে। পরবর্তীতে পরিচিত উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রনি পালের কাছে গেলে সে ৫ হাজার টাকা দাবি করে রিপোর্ট করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। রনি পালকে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার পরই রিপোর্ট প্রদান করা হয়।​এ বিষয়ে নাগরিক নেতা অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, সদর ভূমি অফিস ঘুষের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। চক্রের কারণে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে এবং লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এখন জরুরি ভিত্তিতে এই অফিস ও এর আশপাশে ছড়িয়ে থাকা দালাল সিন্ডিকেট পুরোপুরি নির্মূল করা প্রয়োজন।অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অফিস সহায়ক সুমি বলেন, আমি সদর ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক পদে এবং আমার স্বামী ভূমি সহায়তা কেন্দ্রের দায়িত্বে আছি। অফিসে আমাদের বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। তবে হানিফের কাছ থেকে ৪৩,৫০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং নতুন আবিষ্কৃত সম্পদের সুনির্দিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ভূমি সহায়তা কেন্দ্রের মুরাদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘ব্যস্ত আছেন’ বলে ফোন কেটে দেন।