ঘুষ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন নায়েব গগন,রুখবে কে? অতিষ্ঠ বুড়ি গোয়ালিনী বাসী!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন /
ঘুষ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন নায়েব গগন,রুখবে কে? অতিষ্ঠ বুড়ি গোয়ালিনী বাসী!

বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক : শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি নায়েব) গগন চন্দ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, নামজারি (খারিজ), সরকারি খাল ও খাস জমি ইজারাসহ নানা ভূমিসেবায় অনিয়ম এবং চরম হয়রানির পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ঘুষ লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, উর্ধ্বতন কতিপয় কর্মকর্তার সাথে ভালো সম্পর্কের সুবাদে তিনি বারবার সুবিধাজনক স্থানে বহাল থাকেন। এর মাধ্যমেই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের বাসিন্দা মোস্তফা সরদার অভিযোগ করেন, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ও তদন্ত প্রতিবেদন তৈরিসহ যেকোনো সেবার জন্যই অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয়। জমির মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে শতক প্রতি ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি টাকা নিয়ে প্রকৃত মালিকের বিপক্ষে রিপোর্ট দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।অন্য এক বাসিন্দা কামরুল ইসলাম জানান, নামজারির জন্য আবেদনের পর তাঁর ফাইল আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে ওই অফিসের ঝাড়ুদার ও কর্মকর্তার কথিত দালাল জিতেনের মাধ্যমে ৭ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাঁর কাজ এগোয়। একইভাবে সামাদ গাজী নামের এক সেবাগ্রহীতা জানান, ১ শত টাকা ভূমি উন্নয়ন করের বিপরীতে তাঁর কাছ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, অফিসে দালালের মাধ্যম ছাড়া সাধারণ সেবাগ্রহীতারা কোনো কাজই করাতে পারেন না।স্থানীয় অধিবাসীদের আরও অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে পরিণত হয়। শ্যামনগরের স্থানীয়  চিকিৎসক ডা. আজিজুর রহমান অভিযোগ করেন, ওই এলাকার এক দরিদ্র তরুণীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তাঁকে অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনাও ঘটান এই কর্মকর্তা। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে জানাজানি হলে অর্থ দিয়ে পরিবারটিকে নিস্তব্ধ করা হয়।অভিযোগে জানা যায়, গগন চন্দ্র মন্ডলের মূল বাড়ি কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামে। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান, গগনের বাবার একসময় নদী থেকে মাছ ধরে সংসার চালাতে হতো। কিন্তু ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর রাতারাতি কোটিপতি বনে যান তিনি। সাতক্ষীরা শহরের অভিজাত রাজার বাগান এলাকায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের দু’তলা আলিশান বাড়িসহ তাঁর নামে-বেনামে প্রচুর জমিজমা রয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি চাকরির আয়কর নথি ও সম্পদ বিবরণীর সাথে তাঁর বর্তমান জীবনযাত্রার মানের স্পষ্ট গরমিল রয়েছ।সাতক্ষীরা আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন, ২০০৪ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে  সরকারি পদে আসীন থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ঘুষের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগটি সরাসরি ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’-এর ২৭ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সরকারি বেতনের বাইরে কোটি টাকার বাড়ি ও নামে-বেনামে জমি ক্রয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুদক অবিলম্বে তাঁর সম্পদ বিবরণী তলব করতে পারে এবং অপরাধজনক অসদাচরণের (Criminal Misconduct) দায়ে মামলা রুজু করতে পারে।শুধু তাই নয়, শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়ে নায়েব গগনের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধিমালা ভঙ্গের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে ঘুষ গ্রহণ, ফাইল আটকে রাখা, দালাল চক্র লালন এবং অনৈতিক কাজের দায়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (DC) বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত (Suspension) করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে পারেন।গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে নায়েব গগনের সাথে  যোগাযোগ করা হলে তিনি বর্তমান সাতক্ষীরা কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে অসৎ আচরণ করেন এবং বলেন আমার পারলে ব, ছিঁড়ে নিয়েন, বলে মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ বিষয়ে স্থানীয় নাগরিক নেতা ইদ্রিস আলী বলেন, এসব অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সাথে তাঁর অর্জিত সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।