
বিশেষ প্রতিবেদক : জাল দলিল জমা দিলেই কেল্লাফাতে! নামজারি বা নাম খারিজ হয়ে যাচ্ছে নিমেষেই, বিনিময়ে মিলছে লাখ লাখ টাকা। সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রনি কুমার পাল ও সুমির বিরুদ্ধে উঠেছে এমন ভয়াবহ দুর্নীতি ও বেপরোয়া অনিয়মের অভিযোগ। ক্ষমতার দাপট আর অঢেল অর্থ উপার্জনের নেশায় সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসকে তিনি রীতিমতো জাল দলিলের ‘আতুড়ঘরে’ পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।সম্প্রতি ভূয়া ও জাল দলিলের মাধ্যমে একাধিক বিতর্কিত নামজারি সম্পাদন করে রাতারাতি বিপুল অর্থবিত্তের মালিক বনে গেছেন রনি পাল ও সুমি। অনুসন্ধানে জানা যায়, মূল মালিকদের না জানিয়ে কিংবা জাল কাগজপত্র তৈরি করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের যোগসাজশে নামজারি মঞ্জুর করে দিচ্ছেন রনি পাল। মোটা অঙ্কের বিনিময়ে করা এসব নামজারির কারণে মূল জমির মালিকরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।অবাক করার বিষয় হলো, নামজারির ক্ষেত্রে দাখিলকৃত দলিল ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা ভূমি সহকারী কর্মকর্তার অন্যতম প্রধান আইনি দায়িত্ব হলেও, রনি কুমার পালের ক্ষেত্রে তা যেন সম্পূর্ণ উল্টো। সম্প্রতি নামজারিতে ব্যবহৃত সুস্পষ্ট কিছু জাল দলিলের প্রমাণসহ অভিযুক্ত কর্মকর্তা রনি কুমার পালের মুখোমুখি হলে তিনি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে সরাসরি বলেন, আমার এত দলিল চেক করার সময় নাই। দলিল আসলেই আমি নামজারি করে দেব।এ কথা বলেই তিনি দ্রুত অফিস কক্ষ ত্যাগ করেন।একাধিক গণমাধ্যমে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও দলিলসহ অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেননি অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাতক্ষীরা সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি)। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতা ও নীরব ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনের ছায়াতলেই কি তবে পার পেয়ে যাচ্ছেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা?এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাতক্ষীরাজুড়ে।এদিকে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা বলছেন,দুদক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি ভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন ২০০৪ অনুযায়ী সরকারি পদে থেকে অবৈধ অর্থ উপার্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য এ বিষয়ে দুদকের সরাসরি হস্তক্ষেপ করা উচিত। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে অভিযুক্ত কর্মকর্তা রনি কুমার পালকে সাময়িক বরখাস্ত করে তার সম্পাদিত বিতর্কিত নামজারিগুলোর পুনঃতদন্ত করা প্রয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন :