
রেজওয়ান উল্লাহ, কলারোয়া: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন নারায়ণপুর-সিংহলাল বাজার সড়ক উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শনিবার (৮ আগষ্ট) বিকেলে জালালাবাদ ইউনিয়নের সিংহলাল বাজারে দুই দলের নেতাকর্মীরা পৃথক অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক কলারোয়া থানার পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণপুর থেকে সিংহলাল বাজার পর্যন্ত সড়কটি এলজিইডির উন্নয়নকাজের আওতায় নির্মিত। সড়কটি উদ্বোধন করবেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, এমন প্রত্যাশা ছিল স্থানীয়দের। এরই মধ্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ওই আসনের পরাজিত প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব শনিবার বিকেলে সড়কটি উদ্বোধন করবেন, এমন খবর প্রচার হলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এর প্রতিবাদে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী সাধারণ জনগণের ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে। শনিবার বিকেলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা সিংহলাল বাজারে অবস্থান নিলে বিএনপির নেতাকর্মীরাও সেখানে অবস্থান নেন। দুই পক্ষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহিনের নেতৃত্বে কয়েক কলারোয়া থানার পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। পরে ওসি উভয় পক্ষের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। জামায়াতকে নির্ধারিত স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ করার সুযোগ দিয়ে পরবর্তীতে তাদের স্থান ত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জালালাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আব্দুল মোনায়েমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে জামায়াতের নেতাকর্মীরা স্থান ত্যাগ করেন। পরে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সড়কটি উদ্বোধন করেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব। এ সময় তিনি বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির মুখপাত্র অধ্যক্ষ রঈচ উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাকিব মোল্লা, প্রধান শিক্ষক আমানুল্লাহ আমানসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সড়কটি জেলা পরিষদের কোনো প্রকল্প নয়; এটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন উন্নয়ন মূলক কাজ। এলজিইডি স্থানীয় পর্যায়ে গ্রামীণ সড়ক, সেতু-কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করে।
জামায়াতের নেতাদের দাবি, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনসহ এ ধরনের আনুষ্ঠানিকতায় তাঁকে পাশ কাটিয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে সামনে আনা যথাযথ সরকারি প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটি যেহেতু জেলা পরিষদের নয়, তাই জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের ওই সড়ক উদ্বোধনের সরকারি এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তাদের আরও দাবি, সংসদ সদস্য একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়, তদারকি ও সুপারিশের ভূমিকা পালন করেন। ফলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে অবহিত বা সম্পৃক্ত না করে এলজিইডির প্রকল্প উদ্বোধন করা হলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
এদিকে, সড়ক উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও কলারোয়া থানা পুলিশের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
আপনার মতামত লিখুন :