সাপ্তাহিক বর্তমান সাতক্ষীরা পত্রিকায় খবর প্রকাশের পরই অভিযান-সোনারগাঁ রেস্তোরাকে জরিমানা!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ন /
সাপ্তাহিক বর্তমান সাতক্ষীরা পত্রিকায় খবর প্রকাশের পরই অভিযান-সোনারগাঁ রেস্তোরাকে জরিমানা!

বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক : পচা-বাসি খাবার বিক্রি, রোগাক্রান্ত মুরগি ও ছাগলের মাংস পরিবেশন এবং মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাতক্ষীরা শহরের লাবনী মোড়ে অবস্থিত ‘সোনারগাঁও রেস্তোরা অ্যান্ড সুইটস’-এ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।​বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে পরিচালিত এই বাজার তদারকি অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের অভিযানে রেস্তোরাটির রান্নাঘর ও খাবার প্রস্তুত প্রণালীতে মারাত্মক সব অনিয়ম ধরা পড়ে।বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কঠোরভাবে নিষিদ্ধ কেওড়া জল (যা মূলত কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক উপাদান) মিষ্টি ও ফিরনিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল।খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে কর্মীদের মাথায় কোনো হেডনেট ছিল না। রান্নাঘরের ছাদ ও দেয়ালে ময়লা-ঝুল জমে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।বিক্রি করা দই ও ফিরনিতে কোনো প্রকার মেয়াদ বা উপাদানের মূল্য তালিকা/লেবেল ছিল না।​এসব অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৭ ও ৪৩ ধারা অনুযায়ী সোনারগাঁও রেস্তোরাকে ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা জরিমানা আরোপ ও নগদ আদায় করা।​এর আগে এক অনুসন্ধানে রেস্তোরাটির বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একসময় সুনাম থাকলেও বর্তমানে এটি পচা ও রোগাক্রান্ত মাংস বিক্রির আস্তানায় পরিণত হয়েছে।খামার থেকে ‘গামবোরো’ রোগে আক্রান্ত ও মরা পোল্ট্রি এবং সোনালী মুরগি নামমাত্র মূল্যে কিনে এনে ‘দেশি মুরগির মাংস’ বলে চড়া দামে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় ভুক্তভোগী মোঃ আলী হাসান সাঈদ জানান, বাসি মুরগির মাংস টক ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় প্রতিবাদ করলে তাকে খাসির মাংস দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। গ্রাহক গৌতম মন্ডল দুর্গন্ধযুক্ত ভেটকি মাছ পরিবেশনের প্রতিবাদ করলেও তা পরিবর্তন করা হয়নি। অপর ভুক্তভোগী রাজুর অভিযোগ, বাসি ও পোকা ধরা গ্রিল পরিবেশন করে প্রতিবাদ করলে কর্মচারীরা তা অস্বীকার করে।গত ১১ জুলাই খাসির লটপটি অর্ডার করে ডাস্টবিনের মতো তীব্র পচা গন্ধ পান কয়েকজন ক্রেতা। অভিযোগ ওঠে, সুকৌশলে কম দামে রোগাক্রান্ত মেয়ে ছাগল (বকরি) কিনে ফ্রিজে জমিয়ে রেখে দিনের পর দিন তা বিক্রি করা হচ্ছিল।​জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও রেস্তোরাঁটিতে একাধিকবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সেসময়ও ফ্রিজ থেকে বিপুল পরিমাণ পচা ও বাসি মাংস জব্দ সহ জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু বারবার আইনি ব্যবস্থার পরও তাদের অসাধু কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি।​এদিকে দিনের পর দিন সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এবং প্রশাসনিক জরিমানার পরও স্বভাব পরিবর্তন না করায় ‘সোনারগাঁও রেস্তোরা’কে স্থায়ীভাবে সিলগালা করার দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরার সচেতন নাগরিকরা।