
আব্দুল্লাহ আল মামুন : দেবহাটার কুলিয়া বহেরা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিত্যানন্দ ঘোষের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম অসম্মান জনক ভাবে উচ্চারণে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিভাবকবৃন্দ, স্থানীয়জন সাধারণ ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ ।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নীতিমালা ১.১২ তে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার ১ জন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়/সরকারি মাধ্যমিক/এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়/মাদ্রাসা/কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক/কর্মচারী/সদস্য উক্ত সদস্য মনোনয়ন ও স্বাক্ষরকারীদের উপস্থিতিতে আলোচনা শুরু হলে প্রধান শিক্ষক নিত্যানন্দ ঘোষ আওয়ামীলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কমিটির পদধারী মোজাম্মেল হোসেনের নাম প্রস্তাব করলে উপস্থিত অভিভাবক ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বিস্মিত হন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উপস্থিত অভিভাবক ও বিএনপির সাবেক ছাত্রদল নেতা, ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য ও বিএনপি কর্মী অবসরপ্রাপ্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইউনুস আলীর নাম প্রস্তাব করলে প্রধান শিক্ষক বলেন, আমার একজন সদস্য নিতে হবে এবং তিনি মোজাম্মেল হোসেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে অনাকাঙ্ক্ষিত ও কটুতিক মূলক কথা বলেছেন যা শিক্ষক/শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদে সত্যতা উদঘাটিত হবে। প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে ও সম্মতিতে অভিভাবক, এলাকাবাসী ও নেতৃবৃন্দ ঐকমত্যের ভিত্তিতে মোঃ ইউনুস আলীর নাম নির্ধারণ ও মনোনয়ন সম্পন্ন করেন এবং ১২ সদস্যের উপস্থিতিতে অধিদপ্তর নির্ধারিত ৩০ জুন তারিখের পূর্বে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হলেও অদ্যাবধি প্রধান শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর জমা দান করে নাই। তিনি বিদ্যালয়ে হাজিরা দিয়ে প্রায় দিন বাইরে চলে যান, ফ্যাসিস্ট সময়ের শপথ পরিবর্তন হওয়ার হয়ায় তিনি সমাবেশে উপস্থিত থাকেন না। প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার্থী মায়েদের থেকে তিনি অর্থ উত্তোলন করেছেন যা নীতিমালা বিরোধী। তিনি নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন এবং শিক্ষার্থীদের নম্বর জালিয়াতি করে থাকেন যা প্রমাণিত। প্রশ্নপত্র ফাস ও নম্বর জালিয়াতি প্রমাণ হওয়ায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিলেও বিগত দিনে তিনি কয়েকটি ফলজ ও বনজ গাছ কর্তন করে বিক্রয় করেছেন। স্লিপ ফান্ডের অর্থ শিক্ষকদের সাথে পরামর্শ করে কমিটির মাধ্যমে খরচ করার কথা থাকলেও তিনি তা না করে উক্ত অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে চলেছেন। বিগত বছরগুলোর স্লিপ ফান্ডের অর্থের খরচ নীতিমালা পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। প্রধান শিক্ষকের কর্মকাণ্ডে অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ, উত্তেজনা ও হতাশা বিরাজ করছে বর্তমান পরিস্থিতির অবসান না হলে শান্তি ভঙ্গের আশংকা করা হচ্ছে । প্রধান শিক্ষক নিত্যানন্দ ঘোষ সরকারি চাকরিজীবী হয়েও বিগত ফ্যাসিস্ট শাসন আমলে প্রকাশ্যে বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ রাজনীতির সম্পৃক্ত ছিলেন। যা স্থির চিত্র, ফুটেজ ও পত্র পত্রিকা প্রমাণ বহন করে চলেছে।
তার পুত্র সৌরভ ঘোষ আওয়ামীলীগের প্রত্যায়ন নিয়ে পুলিশের এসআই পদে চাকুরি নেন এবং ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনকারীদের উপর নির্মম নির্যাতন পরিচালনা করে আগস্ট বিপ্লবের পর (২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর) পুলিশ বাহিনীতে নিষিদ্ধ হয়। কয়েকদিন পরে এলাকায় ফিরলে এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা বিগত ফ্যাসিস্ট সময়ের কর্মকাণ্ডসহ বিদ্যালয় অভ্যন্তরীণ শোকজ জনিত বিষয়ে অবরুদ্ধ করলে তিনি লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। বদলি প্রক্রিয়া শুরু হলে বিদ্যালয়ের সুনাম, সুখ্যাতি, ভাবমুবৃত্তি রক্ষায় তিনি স্বেচ্ছায় অন্য বিদ্যালয়ে বদলি হবেন। তিনি বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপর নির্যাতন, দলাদলি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, চাপ প্রয়োগ করছেন এবং অভিভাবকসহ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অতএব ফ্যাসিস্ট সহযোগী প্রধান শিক্ষক নিত্যানন্দ ঘোষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণে দাবি জানান তারা।
এ বিষয় কুলিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিত্যানন্দ ঘোষ এই ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, আমার ফাঁসাতে এ সব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমীন বলেন, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :