
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক : নাম ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’ কিন্তু সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়টির দৃশ্যমান কোনো কাজ নেই। সাধারণ মানুষের পাতে বিষমুক্ত ও নিরাপদ খাবার তুলে দেওয়ার যে আইনি দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানের কাঁধে রয়েছে, তা যেন সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, সাতক্ষীরা জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর দত্তের প্রত্যক্ষ মদদ ও জোগসাজশে জেলার হোটেল, রেস্তোরা, বেকারি এবং বোতলজাত (জার) পানি তৈরির ফ্যাক্টরিগুলো থেকে প্রতি মাসে দেদারসে তোলা হচ্ছে মোটা অঙ্কের মাসোহারা। ঘুষের টাকা সংগ্রহ করার জন্য রয়েছে বিশেষ টিম।নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা নয়, বরং ঘুষের বিনিময়ে নিরাপদ ব্যবসার গ্যারান্টি দিচ্ছে এই সরকারি দপ্তরটি।অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলা জুড়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ‘মালিক সমিতি’ নামধারী কতিপয় ভুঁইফোড় সংগঠনের নেতারা এই অবৈধ অর্থ আদায়ের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন। হোটেল ও বেকারিগুলো থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে টাকা তোলা হয়। টাকা দিলে আর কোনো মোবাইল কোর্ট বা অভিযানের ভয় থাকে না। ব্যবসায়ী মহলে এখন ওপেন সিক্রেট টাকা দিলেই সব মাফ।সম্প্রতি সাতক্ষীরার নামকরা ‘সোনারগাঁ রেস্তোরা’য় মরা-অসুস্থ মুরগি এবং পচা ছাগলের মাংস বিক্রির খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। কিন্তু সেখানেও ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন স্বয়ং নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর দত্ত। সোনারগাঁ রেস্তোরা এক কর্মচারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান, অভিযানের শুরুতে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর দত্ত ও তার সাথে আসা আরেক অফিসার প্রচণ্ড চোটপাট (হুঙ্কার) শুরু করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ভেতরের কক্ষে নিয়ে ম্যানেজারের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। শেষ পর্যন্ত ২৫ হাজার টাকা পকেটে পুরে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়েই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা। পচা মাংস খাইয়ে জনস্বাস্থ্য হুমকিতে ফেলার মতো অপরাধকেও মাত্র পঁচিশ হাজার টাকায় ধামাচাপা দেওয়ার এই ঘটনাটি এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। সাতক্ষীরা আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পচা মাংসের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ধামাচাপা দিতে ঘুষ গ্রহণ করা কেবল বিভাগীয় অসদাচরণ নয়, এটি একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের পদের প্রভাবে অবৈধ সুবিধা বা ঘুষ গ্রহণ করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড, অর্থদণ্ড এবং চাকরিচ্যুতির সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।এই গুরুতর অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়ে জানতে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর দত্তের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের পরিবর্তে চরম ঔদ্ধত্ত ও দম্ভ প্রদর্শন করেন। অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে তিনি বলেন, যা পারেন তাই করেন বলে মুঠোফোনের সংযুক্তি বিচ্ছিন্ন করে দেন। নাগরিক নেতা আবুল হোসেন বলেন একজন প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তার মুখে এমন বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য প্রমাণ করে যে, ওপর মহলের ছত্রছায়ায় তিনি কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।নিরাপদ খাদ্যের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন হরিলুট এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার চরম স্বেচ্ছাচারিতায় সাতক্ষীরার সাধারণ নাগরিক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনতিবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে তাকে বিচারের আওতায় আনা হোক। অন্যথায় সাতক্ষীরার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
আপনার মতামত লিখুন :