রেজওয়ান উল্লাহ,কলারোয়া প্রতিনিধি: ‘গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য রাখো ধরি, চলো সবাই কাবাডি খেলি, খেলাধুলায় বাড়ে বল, মাদক ছেড়ে মাঠে চল’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬। ঐতিহ্যবাহী জাতীয় খেলা কাবাডিকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি তরুণ সমাজকে মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় কলারোয়া ফুটবল মাঠে কলারোয়া থানা পুলিশের আয়োজনে জমকালো পরিবেশে এ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শুরুর আগে থেকেই মাঠের চারপাশে দর্শকদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে আগত খেলোয়াড়দের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।
প্রতিযোগিতায় উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে মোট চারটি দল অংশ নেয়। শুরু থেকেই দলগুলোর মধ্যে ছিল জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। প্রতিটি রেইড ও ট্যাকেলকে ঘিরে মাঠে তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত। খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত নৈপুণ্য ও শারীরিক সক্ষমতার প্রদর্শনী দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় শেষ পর্যন্ত কলারোয়া পৌরসভা কাবাডি দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। আর হেলাতলা ইউনিয়ন কাবাডি দল রানার্সআপ হয়। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়।
খেলা শেষে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “কাবাডি আমাদের জাতীয় খেলা এবং গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মাঠমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি বলেন, তরুণদের একটি বড় অংশ অবসর সময়ে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম কিংবা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত করা গেলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আয়োজকরা জানান, কাবাডি শুধু একটি খেলা নয়; এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি জাতীয় খেলা। আধুনিক সময়ে বিভিন্ন খেলার জনপ্রিয়তা বাড়লেও কাবাডির ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মাঠে ফিরিয়ে আনতে এবং মাদক, কিশোর অপরাধসহ নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি হবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া কলারোয়া পৌরসভা কাবাডি দল পরবর্তী সময়ে সাতক্ষীরা জেলা পর্যায়ের কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করবে। জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন দল পরবর্তীতে খুলনা রেঞ্জ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। রেঞ্জ পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর জাতীয় পর্যায়ের কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
এদিকে প্রথমবারের মতো কলারোয়ায় কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করায় স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। বিভিন্ন বয়সী মানুষ মাঠে এসে খেলা উপভোগ করেন। খেলার প্রতিটি মুহূর্তে দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে কলারোয়া ফুটবল মাঠ।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ক্রীড়াবিদ, খেলোয়াড় এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। তারা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কাবাডি প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন।
দর্শকদের অনেকেই বলেন, মোবাইল ও অনলাইননির্ভরতার এই সময়ে তরুণদের মাঠমুখী করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি হলে তরুণরা যেমন শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকবে, তেমনি মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকেও দূরে থাকবে।
সুন্দর ও ব্যতিক্রমী এ আয়োজনের জন্য কলারোয়া থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানান উপস্থিত দর্শক ও স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভাকে নিয়ে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে কলারোয়ার তরুণ সমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও জনসচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
আপনার মতামত লিখুন :