এএসআই এরশাদের নেতৃত্বে কালিগঞ্জে মাদক সিন্ডিকেটের কবল থেকে সাংবাদিকের ফোন উদ্ধার


News Desk (S) প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৮, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন /
এএসআই এরশাদের নেতৃত্বে কালিগঞ্জে মাদক সিন্ডিকেটের কবল থেকে সাংবাদিকের ফোন উদ্ধার

সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জের বন্দকাটি গ্রামের মাদক সিন্ডিকেটের কবল থেকে এক সাংবাদিকের ফোন উদ্ধার করা হয়েছে এএসআই এরশাদের নেতৃত্বে। দীর্ঘ ২ মাস রুদ্ধশ্বাস অভিযানের ফলে এই ফোন উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, কালিগঞ্জ উপজেলার ভয়াবহ মাদকের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে কৃষ্ণনগর বিষ্ণুপুর ও দক্ষিণশ্রীপুর ইউনিয়ন মিলে। এই সিন্ডিকেট দীর্ঘবছর ধরে সরাসরি কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে কালিগঞ্জ উপজেলার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে আসছে। সরাসরি টেকনাফ থেকে ইয়াবা আসার কারণে এই এলাকায় সহজে মিলছে মরণঘাতী মাদক ইয়াবা। হাতের নাগালে ইয়াবা পাওয়ার কারণে অল্প বয়সী যুবক থেকে মধ্য বয়সী যুবকরা ইয়াবা সেবনে আসক্ত হয়েছে। প্রতিপিছ ইয়াবা বিক্রি হয় খুচরা ৩৫০ টাকা দরে আর পাইকারী ২৫০-২৮০ টাকা দরে। ইয়াবার টাকা যোগাড় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ওই এলাকায় চুরি ডাকাতি ছিনতাই বেড়ে গেছে। ছোট ছোট দল নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে কিশোরগাং। যারা চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি ডাকাতি করে সর্বস্ব লুট করছে। যার ফলে এলাকায় বসবাস করতে পারছে না সাধারণ মানুষ। এমতাবস্থায় একটি অনুসন্ধানী সাংবাদিক টিম অত্র এলাকায় অবস্থান করে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য মোস্তফা রায়হান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে। টানা ৭ দিন অনুসন্ধান করে কিশোরদের ইয়াবাসেবন ভিডিও, মাদককেনাবেচার ভিডিও ও সরাসরি টেকনাফ থেকে ইয়াবা আসার রুট কল রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। অনুসন্ধান শেষে সাতক্ষীরা ফেরার দিন রাতে সাংবাদিক মোস্তফা রায়হান সিদ্দিকীর অবস্থানরত বাসা থেকে মাদক সিন্ডিকেট তথ্যবহুল তার ব্যবহৃত দুটি ফোন ও একটি স্বর্ণের আংটি রাতে ডাকাতি করে পালিয়ে যায়। এই সিন্ডিকেটের মূল উদ্দেশ্য ছিল অনুসন্ধানী ফুটেজগুলো নষ্ট করা যাহাতে মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করতে পারে। এই সিন্ডিকেটের সদস্য বন্দকাটি গ্রামের আবু সাইদের পুত্র বিপ্লব হোসেন, যোগেস্বর সরকার, সৌরভ সরকার নেতৃত্বে  এক মাদক সম্রাটের নির্দেশে ফোন ডাকাতির পর বিক্রি করে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুরে গ্রামের বাবু ডাকাতের কাছে। বাবু ডাকাত ফোনটি বিক্রি করে একই গ্রামের মনিরুল কাগুজীর কাছে। মনিরুল কাগুজী ফোনটি বিক্রি করে তার সাবেক স্ত্রী তাহমিনার কাছে যে বসবাস করে খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গা এলাকায়। পুলিশের বিশেষ টিমের ফোন ট্যাকিং করা হলে এসকল তথ্য পা-ওয়া যায়। পরবর্তীতে কালিগঞ্জ থানার দক্ষ পুলিশ অফিসার এরশাদের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্রটি ধরা পড়ে। এই চক্রটি এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ কিশোর গাং সৃষ্টি, চুরি ডাকাতির সাথে জড়িত। আইনশৃঙ্খলা অবস্থা অবনতি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুশীল নাগরিক সমাজ।

বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ মোস্তফা বলেন, কালিগঞ্জের ভয়াবহ মাদকের সিন্ডিকেট এই বন্দকাটি গ্রামে। প্রকাশ্য ইয়াবা বিক্রির ফলে কিশোর থেকে যুবক সকলে ইয়াবা আসক্ত। যার ফলে এলাকায় চুরি ডাকাতি বেড়ে চলেছে। মানুষের বসবাসের অনুউপযোগী হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ আজ নিরুপায় এদের ভয়ে মুখ খুলতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি আমরা দ্রুত এই পরিস্থিতির উত্তরণ চাই।
কালিগঞ্জ থানা কর্মরত এএসআই এরশাদ বলেন, কালিগঞ্জের বন্দকাটি মাদকের একটি বিশাল সিন্ডিকেট রয়েছে। এই মাদক সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক খুব শক্তিশালী। আমি শুনেছি তারা সরাসরি টেকনাফ থেকে ইয়াবা নিয়ে আসে প্রকাশ্য বিক্রি। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করতে গিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য মোস্তফা রায়হান সিদ্দিকীর তথ্যবহুল ফোন দুটি চুরি করে। আমরা বিশেষ কারিগরি সহয়তায় একটি ফোন উদ্ধার ও চোর সনাক্ত করি।
বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্দকাটিতে প্রকাশ্য ইয়াবা বিক্রি ফলে চুরি ডাকাতি বেড়ে গেছে। এলাকায় বাসা বাড়ি থেকে মানুষের পালিত হাস মুরগিও চুরি করছে। বন্দকাটি কয়েকটি কিশোর গাং আমরা সনাক্ত করেছি। এদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করতে গিয়ে এক সাংবাদিকদের দুটি ফোন ও সোনার আংটি চুরি করে। এই চোরচক্রের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী। প্রায় দুই মাস ধরে রুদ্রশ্বাস অভিযানে পুলিশের বিশেষ কারিগরি সহায়তায় ফোন উদ্ধার করে চোর সনাক্ত করা হয়েছে।