কালিগঞ্জে রুপচাঁদার নামে নিষিদ্ধ পিরানহা বিক্রির অভিযোগ
News Desk (S)
প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৫, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ন /
০

শেখ আহসান হাবিব, কালিগঞ্জ: কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে রুপচাঁদা মাছের নামে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে চৌমুহনী বৈকালীন হাটে কয়েকজন মাছ বিক্রেতাকে প্রকাশ্যে এ মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বাজারের ক্রেতা ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মাছটি প্রকৃতপক্ষে কী এবং তা খাদ্য হিসেবে কতটা নিরাপদ তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিক লাভের আশায় অসাধু কিছু মাছ ব্যবসায়ী নিষিদ্ধ পিরানহা মাছকে রুপচাঁদা কিংবা অন্য কোনো মাছের নাম দিয়ে বিক্রি করছেন। মাছটি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় অনেক সাধারণ ক্রেতা না চিনেই তা কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। এতে একদিকে ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে নিষিদ্ধ মাছের বাজার জাত করণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, পিরানহা আক্রমণাত্মক প্রজাতির মাছ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশে এর চাষ, উৎপাদন ও বাজার জাত করণ নিষিদ্ধ থাকার পরও বিভিন্ন স্থানে গোপনে এ মাছ বিক্রির অভিযোগ মাঝেমধ্যেই পাওয়া যায়। চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে এমন মাছ বিক্রির ঘটনায় প্রশাসনের বাজার তদারকি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ অভিযোগ, মাছ বিক্রেতাদের অনেকে মাছের প্রকৃত নাম বা পরিচয় সম্পর্কে ক্রেতাদের সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না। ফলে মাছ চিনতে না পারা সাধারণ মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। বাজারে নিয়মিত মনিটরিং ও বিক্রিত মাছের প্রজাতি যাচাই করা হলে এ ধরনের অনিয়ম অনেকটাই বন্ধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নিষিদ্ধ মাছের বিক্রি বন্ধে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, বাজারের মাছ ব্যবসায়ীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে মাছের নাম ও পরিচয় গোপন করে ক্রেতাদের কাছে বিক্রির অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আজ (২৫ আগস্ট) উপজেলা মৎস্য অফিসে সংশ্লিষ্টরা জানান, নিষিদ্ধ প্রজাতির মাছ চাষ, বাজারজাত বা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে চৌমুহনী বাজারে বিক্রি হওয়া পিরানহা মাছটি প্রকৃতপক্ষে বিক্রয় করার বৈধতা আছে কিনা কয়েকজন বিক্রেতার কাছে জানতে চাইলে বলেন, আমরা অনেক আগে থেকে শুনে আসছি এটি অবৈধ এবং বিষাক্ত মাছ বিক্রি করা নিষিদ্ধ আছে। অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত বাজার পরিদর্শন ও অভিযান পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাছ বিক্রেতাদের বৈধতা, মাছের প্রজাতি এবং বাজার জাতের উৎস যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :