হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে ভূমিদস্যু ভোলা ও গুরুপদর ঝিটকী গ্রামে জমি দখল!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ন /
হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে ভূমিদস্যু ভোলা ও গুরুপদর ঝিটকী গ্রামে জমি দখল!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ​সাতক্ষীরা সদরের শিবপুর ইউনিয়নের ঝিটকী গ্রামে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ভূমিদস্যু ভোলা ও গুরুপদর বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ওই জমির দখলে থাকা একই গ্রামের আব্দুল আজিজ এই অভিযোগ করেন।সরজমিনে অনুসন্ধানে জানাযায় , ৫ নং শিবপুর ইউনিয়নের ঝিটকী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজের জমি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব বিস্তার করে ২০২৩ সালে ভুয়া নামজারি (মিউটেশন) করায় গুরুপদ ও ভোলা (পিতা-পুত্র)। পরবর্তীতে তারা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে সেই জমি দখল করে নেয়।জানা গেছে,১.৬৫ একর জমির মধ্যে ভুয়া মিউটেশন করা হয়েছে ১.৪০ একর। জমি ঝিটকী মৌজার এস.এ ২৩৪ খতিয়ানভুক্ত। মূলত এস.এ খতিয়ানের প্রকৃত মালিক বিধানের কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন আব্দুল আজিজ।ভূমিদস্যু ভোলা ও গুরুপদ ওই এলাকায় জাল দলিল ও ভুয়া মিউটেশন তৈরির চক্রের মূল হোতা।এর আগে ১৯৯৬ সালে জাল দলিল করার অপরাধে ভোলা ও গুরুপদ ৬ মাস জেলও খেটেছে। আব্দুল আজিজ এই ভুয়া মিউটেশনের বিরুদ্ধে মামলা করলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) কার্যালয় থেকে তার পক্ষে রায় দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে খুলনার জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে আপিল করে গুরুপদ ও ভোলা। পরবর্তীতে আব্দুল আজিজ হাইকোর্টে আপিল করে জমি পুনরায় ভোগ-দখলের পক্ষে আদেশ পান। কিন্তু সেই আদেশ অমান্য করে ভোলা ও গুরুপদ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রকৃত মালিক আব্দুল আজিজকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জমিটি পুনরায় দখল করে নেয়। বর্তমানে নিরুপায় আজিজ পথে বসেছেন এবং জমির সঠিক বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এর মধ্যে গুরুপদ ও ভোলা তাকে প্রস্তাব দেয় যে, জমিটি অর্ধেক করে ভাগ করে চাষাবাদ করলে আর কোনো ঝামেলা থাকবে না। কিন্তু জমির প্রকৃত মালিক আজিজ তাদের এমন অনৈতিক প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।এদিকে আরেক ​ঝিটকী গ্রামের বাসিন্দা মুকুল মাস্টার বলেন, “এই জমির প্রকৃত মালিক আব্দুল আজিজ। ভোলা ও গুরুপদ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া মিউটেশন করেছে। পরে আজিজ হাইকোর্টের রায় নিয়ে এসেও জমির দখলে যেতে পারছেন না। উল্টো তাকে মেরে ফেলার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে।গ্রামের আরেক বাসিন্দা অরুন মন্ডল বলেন, “গুরুপদ ও ভোলা মূলত ভূমিদস্যু। তারা বিভিন্ন মানুষের জমিতে ঝামেলা সৃষ্টি করে জাল দলিল ও নামজারি তৈরি করে। আব্দুল আজিজের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটেছে। আমরা চাই প্রকৃত মালিক আব্দুল আজিজ তার জমি বুঝে পাক এবং এই হয়রানি থেকে মুক্তি পাক।”জমির প্রকৃত মালিক আব্দুল আজিজ বলেন, “আমি ২০ বছর ধরে এই জমি ভোগ-দখল করছি। এস.এ খতিয়ানের মালিক বিধানের কাছ থেকে আমি এটি ক্রয় করি। হঠাৎ ২০২৩ সালে ভুয়া মিউটেশন করে তারা জমিটি দখল করে নেয়। আমি এডিসি অফিসে অভিযোগ জানিয়ে রায় পাই। এরপর ভোলা ও গুরুপদ আমাকে হয়রানি করতে খুলনায় আপিল করে। পরবর্তীতে আমি হাইকোর্টে আপিল করে জমি ভোগ-দখলের পক্ষে রায় পাই। কিন্তু এরপরও আমি আমার জমিতে যেতে পারছি না।”এদিকে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত ভোলা ও গুরুপদর সাথে তাদের নিজ এলাকা ঝিটকী গ্রামে সরাসরি যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে, গণমাধ্যমকর্মীদের দেখে তারা দৌড়ে পালিয়ে যান।