
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জের বন্দকাটি গ্রামের মাদক সিন্ডিকেটের কবল থেকে এক সাংবাদিকের ফোন উদ্ধার করা হয়েছে এএসআই এরশাদের নেতৃত্বে। দীর্ঘ ২ মাস রুদ্ধশ্বাস অভিযানের ফলে এই ফোন উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, কালিগঞ্জ উপজেলার ভয়াবহ মাদকের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে কৃষ্ণনগর বিষ্ণুপুর ও দক্ষিণশ্রীপুর ইউনিয়ন মিলে। এই সিন্ডিকেট দীর্ঘবছর ধরে সরাসরি কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে কালিগঞ্জ উপজেলার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে আসছে। সরাসরি টেকনাফ থেকে ইয়াবা আসার কারণে এই এলাকায় সহজে মিলছে মরণঘাতী মাদক ইয়াবা। হাতের নাগালে ইয়াবা পাওয়ার কারণে অল্প বয়সী যুবক থেকে মধ্য বয়সী যুবকরা ইয়াবা সেবনে আসক্ত হয়েছে। প্রতিপিছ ইয়াবা বিক্রি হয় খুচরা ৩৫০ টাকা দরে আর পাইকারী ২৫০-২৮০ টাকা দরে। ইয়াবার টাকা যোগাড় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ওই এলাকায় চুরি ডাকাতি ছিনতাই বেড়ে গেছে। ছোট ছোট দল নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে কিশোরগাং। যারা চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি ডাকাতি করে সর্বস্ব লুট করছে। যার ফলে এলাকায় বসবাস করতে পারছে না সাধারণ মানুষ। এমতাবস্থায় একটি অনুসন্ধানী সাংবাদিক টিম অত্র এলাকায় অবস্থান করে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য মোস্তফা রায়হান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে। টানা ৭ দিন অনুসন্ধান করে কিশোরদের ইয়াবাসেবন ভিডিও, মাদককেনাবেচার ভিডিও ও সরাসরি টেকনাফ থেকে ইয়াবা আসার রুট কল রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। অনুসন্ধান শেষে সাতক্ষীরা ফেরার দিন রাতে সাংবাদিক মোস্তফা রায়হান সিদ্দিকীর অবস্থানরত বাসা থেকে মাদক সিন্ডিকেট তথ্যবহুল তার ব্যবহৃত দুটি ফোন ও একটি স্বর্ণের আংটি রাতে ডাকাতি করে পালিয়ে যায়। এই সিন্ডিকেটের মূল উদ্দেশ্য ছিল অনুসন্ধানী ফুটেজগুলো নষ্ট করা যাহাতে মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করতে পারে। এই সিন্ডিকেটের সদস্য বন্দকাটি গ্রামের আবু সাইদের পুত্র বিপ্লব হোসেন, যোগেস্বর সরকার, সৌরভ সরকার নেতৃত্বে এক মাদক সম্রাটের নির্দেশে ফোন ডাকাতির পর বিক্রি করে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুরে গ্রামের বাবু ডাকাতের কাছে। বাবু ডাকাত ফোনটি বিক্রি করে একই গ্রামের মনিরুল কাগুজীর কাছে। মনিরুল কাগুজী ফোনটি বিক্রি করে তার সাবেক স্ত্রী তাহমিনার কাছে যে বসবাস করে খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গা এলাকায়। পুলিশের বিশেষ টিমের ফোন ট্যাকিং করা হলে এসকল তথ্য পা-ওয়া যায়। পরবর্তীতে কালিগঞ্জ থানার দক্ষ পুলিশ অফিসার এরশাদের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্রটি ধরা পড়ে। এই চক্রটি এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ কিশোর গাং সৃষ্টি, চুরি ডাকাতির সাথে জড়িত। আইনশৃঙ্খলা অবস্থা অবনতি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুশীল নাগরিক সমাজ।
আপনার মতামত লিখুন :