স্কাউট ক্যাম্পফায়ারে দগ্ধ শিক্ষার্থী মৃত্যুর মুখে: দায় এড়াতে প্রধান শিক্ষক প্রদেশ কুমারে আজব অজুহাত!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৯, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন /
স্কাউট ক্যাম্পফায়ারে দগ্ধ শিক্ষার্থী মৃত্যুর মুখে: দায় এড়াতে প্রধান শিক্ষক প্রদেশ কুমারে আজব অজুহাত!

বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক  : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সদরে অবস্থিত সরকারি কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দু’দিনব্যাপী বাৎসরিক স্কাউট সমাপনী অনুষ্ঠানের ‘ক্যাম্প ফায়ার’এ মুখে পেট্রোল দিয়ে আগুন জ্বালাতে গিয়ে দশম শ্রেণীর ছাত্র আনাস বিল্লাহ (১৫) গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে থানা থেকে মাত্র ৫০ গজ এবং উপজেলা পরিষদ থেকে ২০০ গজ দূরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী কালিগঞ্জের তারালি ইউনিয়নের পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের গাজী জাকিরুল ইসলামের ছেলে।ঘটনার চরম ভয়াবহতা সত্ত্বেও তা উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং স্থানীয় থানা পুলিশ থেকে গোপনে রাখার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। বর্তমানে দগ্ধ ছাত্র খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে কোনো তথ্য না জানানোয় প্রশাসনিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিলন কুমার সাহা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জয়নাল আবেদীন এবং থানার ওসি শহিদুল ইসলাম হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের কিছুই জানায়নি। সাংবাদিকদের মাধ্যমেই তারা বিষয়টি প্রথম জানতে পারেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন কুমার সাহা  জানান, ঘটনার বিষয়ে তাকে বিন্দুমাত্র অবহিত করা হয়নি এবং প্রশাসনিক নিয়ম ও আইন অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি স্কুল হলেও এত বড় একটি দুর্ঘটনা ও শিক্ষার্থীর জীবন-মরণের প্রশ্ন জড়িত থাকা সত্ত্বেও ইউএনও বা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে না জানানো চরম দায়িত্বহীনতা।উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত না করার বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদেশ কুমার সরকার দায় এড়ানোর নানা যুক্তি উপস্থাপন করেন। বর্তমান সাতক্ষীরা অফিসের মোবাইল ফোনে  অডিও রেকর্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, এটি সরকারি হাইস্কুল, এর নিয়ন্ত্রণ সরাসরি খুলনা উপ-পরিচালক (ডিডি) স্যারের অধীনে। তাই সব খবর ইউএনও বা স্থানীয় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানোর কোনো প্রয়োজন মনে করিনি।ডিডি সাহেবকে জানানো হয়েছে কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, যখন প্রয়োজন মনে হবে তখন জানাবেন।ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রধান শিক্ষক জানান, ক্যাম্প ফায়ারের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আকর্ষণীয়ভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উপস্থিত স্কাউট শিক্ষকদের সামনেই আনাস বিল্লাহ নিজেদের অসাবধানতায় কাঠ ও পেট্রোলের স্তূপে মুখ দিয়ে ফুঁ ছিটিয়ে আগুন দিতে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে নিরাপত্তার চরম অভাব এবং স্কাউট শিক্ষকদের উপস্থিতিতে কীভাবে একজন শিক্ষার্থীকে পেট্রোল নিয়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে দেওয়া হলো সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।ঘটনার পরপরই মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় আনাসকে প্রথমে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার মুখমণ্ডল ও শরীরের একাংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে। প্রধান শিক্ষক জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে চিকিৎসার যাবতীয় খরচ স্কুল কর্তৃপক্ষ বহন করছে এবং শিক্ষার্থীকে দেখতে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে।অভিজ্ঞ মহল ও সচেতন অভিভাবকদের মতে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার এই অপচেষ্টা কেবল দায়িত্বহীনতাই নয়, বরং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম অবহেলার স্পষ্ট প্রমাণ। সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রধান শিক্ষকসহ দায়ী স্কাউট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।