সাতক্ষীরায় বেড়েছে আপত্তিরকর ঘটনা : সামাজিক অবক্ষয়ে নেটিজেনদের তীব্র নিন্দা


News Desk (S) প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৯, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ন /
সাতক্ষীরায় বেড়েছে আপত্তিরকর ঘটনা : সামাজিক অবক্ষয়ে নেটিজেনদের তীব্র নিন্দা
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে বেড়েছে বিভিন্ন জায়গায় আপত্তিকর ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক ভাইরাল হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আপত্তিকর ভিডিও। বারবার এমন ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নেটিজেনরা।
প্রথমে মহান জাতীয় সাংসদের সদস্য সাতক্ষীরা ৪ আসনের গাজী নজরুলের সাথে নাতির বয়সীর এক মেয়ের সাথে ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে আপত্তিকট ভিডিও ভাইরাল। প্রথমে গুজব বলে দাবি করে জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। ফ্যাটচেকিং যখন ভিডিও প্রকৃত ঘোষণা হয় তখন মোড় নেয় নাটকীয়তার। জামায়াত নেতৃবৃন্দ দাবি করে তার দ্বিতীয় বউ। ভূয়া কাজীর মাধ্যমে কাবিনামাও তৈরি করে কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে থলের বিড়াল
 মেয়ের মামার জবানবন্দিতে উঠে আসে প্রভোলনের ফাঁদে ফেলে ওই কিশোরীকে দীর্ঘদিন ভোগ করে আসছে গাজী নজরুল। কিশোরীর পিতাকে ঠিকাদারি লাইসেন্সে কাজ পাওয়ায়ে দিয়ে কোটিপতি আর মেয়ের সোনার হরিণ খ্যাত চাকরি। সেই শর্তে অবাধ মেলামেশা শুরু করে গাজী নজরুল। কিন্তু কোন শর্তপূরণ না করে টালবাহানা করতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে মেয়ের মামা কিছু ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করলে তাৎক্ষণিক গণমাধ্যমের নজর আসে। দেশের প্রথম শ্রেণীর সকল গণমাধ্যম গাজর নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিশেষ পর্বের প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
যেটা গোটা দেশজুড়ে  চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর পদ থেকে বহিষ্কার হশ গাজী নজরুল। শ্যামনগরে সাধারণ জনতার ব্যনারে শুরু হয় সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ।
অপরদিকে এই ঘটনার রেশ না কাটতেই পরপরই শ্যামনগরে হরিনগর ইউনিয়নের চন্ডীপুর গ্রামে এক যুবদলের নেতা সাথে এনজিও কর্মী চম্পাকে আপত্তিকর অবস্থায় জনতার হাতে আটক একটি অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। একই সাথে শ্যামগরে আরেক বিএনপির কর্মীর অশ্লীল ভিডিও প্রকাশিত হয়।
তাছাড়া পাটকেলঘাটায় এক সনাতনী বিবাহিত মহিলার সাথে এক যুবকের আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে তার পরিবার যেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হইচই পড়ে যায়।
একই সাথে বেশ কয়েকদিন ধরে গণমাধ্যমে সদর ভূমি অফিসের দুই কর্মকর্তা এসিল্যান্ড বদরুদ্দোজা  ও নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারের পরোকীয়া প্রেম কাহিনী  একাধিক গণমাধ্যমে জাতীয় থেকে আঞ্জলিক পত্রিকায় বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে।যেটা পুরো সাতক্ষীরার টফ অফ দা টাউনে পরিণতি হয়েছে জেলাজুড়ে হইচই পড়ে গেছে।
 নাগরিক নেতা অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়ের আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি। সাতক্ষীরা বেশ কয়েকটি ভিডিও দেখে আমি হতবাক। এমন ঘটনা চলতে থাকলে জেলা হিসাবে সাতক্ষীরার সম্মান বিনষ্ট হবে। এসকল ভিডিও সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে কিশোর কিশোরীদের ওপর প্রভাব ফেলবে। আমি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পরবর্তী প্রজন্ম প্রভার না ফেলে সেদিক খেয়াল রাখর অনুরোধ জানাবো।
সিনিয়র সাংবাদিক শামীম পারভেজ বলেন, সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও, কল রেকর্ড ফাঁস হওয়া খুব লজ্জার বিষয়। যাদের এসকল ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে তাদের পরিবারের প্রতি নীতিবাচক সামাজিক প্রভাব পড়ছে। তাছাড়া কিশোর কিশোরীদের ভিতরে একটা ভিন্ন ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে। যেটা ভবিষ্যতে সামজিক অবক্ষয়ে পরিণত হবে। সবাই কে সজাগ থাকতে হবে এধরনের ভিডিও যাহাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে না ছড়িয়ে পড়ে।
অপরদিকে সমাজকর্মী উদারতা ফাউন্ডেশনের পরিচালক শিমুল হোসেন বলেন, সামজিক অবক্ষয় রোধ ফেসবুকে এধরনের ভিডিও প্রভাব ফেলছে। ফাঁস হওয়া আপত্তিকর ভিডিও গুলো একদিকে মানুষের চরিত্র প্রকাশ হচ্ছে আবার সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হয়। আমাদের সকলে উচিত গণমাধ্যমে প্রকাশিত এধরনের ভিডিও সামজিক অবক্ষয়ে নীতিবাচক প্রভাব না ফেলে।