
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
কড়াইতে মাংস চড়াতেই চোখ চড়কগাছ! রান্নার জন্য চুলোয় বসানোর মাত্র দুই মিনিটের মাথায় গরুর মাংসের বর্ণ বদলে হয়ে গেল গাঢ় সবুজ, আর মাংস ধোয়ার পানি যেন ধারণ করল তরল আলকাতরার রূপ! খুলনার পাইকগাছায় পিকনিকের জন্য কেনা মাংস রান্না করতে গিয়ে এমন ভয়াবহ ও অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক। প্রশ্ন উঠেছে—এ কি স্রেফ মাংস, নাকি অনিয়মের আশ্রয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিকের খেল? খবর পেয়ে পাইকগাছা থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ক্ষিপ্রতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে রান্নাকৃত সেই রহস্যময় মাংস আলামত হিসেবে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাইকগাছা পৌরসভা এলাকার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা একটি পিকনিকের আয়োজন করেন। সে উদ্দেশ্যে তারা পাইকগাছা মাংস বাজারের ব্যবসায়ী ইসমাইল কসাইয়ের দোকান থেকে ফ্রিজে সংরক্ষিত ২ কেজি ৯০০ গ্রাম গরুর মাংস ক্রয় করেন। বিপত্তি ঘটে রান্নার জন্য মাংস প্রসেসিং করে কড়াইতে চাপানোর পর। ধোয়ার পানি কালচে হওয়ার পাশাপাশি রান্নার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় মাংসের বর্ণ গাঢ় সবুজ হতে শুরু করে। অস্বাভাবিক এই পরিবর্তন দেখে উপস্থিত কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হয় তীব্র ভীতি। মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে কৌতুহলী ও ক্ষুব্ধ জনতা সেখানে ভিড় জমান।
ঘটনার খবর পেয়ে পাইকগাছা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হয় এবং আলামত হিসেবে রহস্যময় সেই মাংস উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হতেই জনমনে চরম ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। অভিযুক্ত মাংস ব্যবসায়ী ইসমাইল কসাইয়ের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার, বাসি-পচা মাংস বিক্রি এবং ওজনে কারচুপিসহ একাধিক অনিয়মের পুরোনো অভিযোগ নতুন করে সামনে আনছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, কঠোর তদারকির অভাবে বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব ও সততার সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। উদ্ধারকৃত মাংসের নমুনা ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ল্যাব রিপোর্ট এলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে ঠিক কী ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া বা ভেজালের কারণে এমনটি ঘটেছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে কারোরই রেহাই মিলবে না।”
জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং বাজারে নিরাপদ খাদ্য বজায় রাখতে বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে এই রহস্যের আসল সত্য উন্মোচিত হবে এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা পাইকগাছাবাসীর।
আপনার মতামত লিখুন :