
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক : সরকারি অফিসে সেবাগ্রহীতা ও সাধারণ মানুষের প্রতি শিষ্টাচার বজায় রাখা যেখানে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক, সেখানে অফিসে বসে টেবিলের ওপর পা তুলে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়ার বিরুদ্ধে।,অফিস চলাকালীন সময়ে অফিসিয়াল টেবিলে খালি পা তুলে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত রয়েছেন উক্ত কর্মকর্তা। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ তিনি অফিসে আসা সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং জনপ্রতিনিধি বা সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের যথোপযুক্ত সম্মান দেন না।সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দিষ্ট কিছু আইন ও বিধিমালা রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণ স্পষ্টতই সরকারি আচরণবিধির লঙ্ঘন।সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ বিধিমালার মূল বক্তব্য হলো যেকোনো সরকারি কর্মকর্তাকে জনগণের সাথে সৌজন্যমূলক ও শিষ্টাচারপূর্ণ আচরণ করতে হবে। অফিসে দায়িত্ব পালনকালে এমন কোনো আচরণ করা যাবে না যা সরকারি পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ বিধিমালার ৩(খ) ধারা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ (Misconduct)-এর জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান রয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের অবজ্ঞা করা, কার্যক্ষেত্রে দায়িত্বজ্ঞানহীন বা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করা আইনত অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হয়।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে “সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।সরকারি চেয়ার বা অফিস কোনো ব্যক্তিগত জায়গা নয়। সরকারি টেবিলে পা তুলে বসা এবং সেবাগ্রহীতাদের সাথে ঔদ্ধত্য দেখানো শুধু শিষ্টাচারবহির্ভূতই নয়, বরং সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি চাকরিবিধির আওতায় ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হয়, যার জন্য বিভাগীয় তদন্ত ও অনুশাসনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।”সাতক্ষীরার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানিনীতি ও নদী-খাল সংস্কারের মতো সংবেদনশীল কাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের চেয়ে নিজস্ব ক্ষমতা দেখাতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। অফিস চলাকালীন সময়ে এমন অশোভন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :