সাতক্ষীরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ দাবির অভিযোগ, থলিদার ইকবাল


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২১, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ন /
সাতক্ষীরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ দাবির অভিযোগ, থলিদার ইকবাল
# ডিসি ফুড ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়।
# থলিদার উপ-খাদ্য পরিদর্শক মো: ইকবাল হোসেন।
# মদ ও নারী আসক্তের অভিযোগও রয়েছে।
# লাইসেন্স নবায়নে লাগে মিল প্রতি ৩০ হাজার টাকা।
# দুদকের তদন্ত জরুরি।
# অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি ভূক্তভোগীরা।
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক : সাতক্ষীরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) মো: ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে লাইসেন্স নবায়ন, সরকারি চাল বরাদ্দ, ধান ক্রাশিংসহ বিভিন্ন সেবার বিপরীতে অর্থ দাবি, রাইচ মিল মালিকদের হয়রানি এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা রাইচ মিল মালিক সমিতির নেতারা। তার সমস্থ অবৈধ লেনদেনের থলিদার হিসাবে কাজ করেন উপ-খাদ্য পরিদর্শক মো: ইকবাল হোসেন। ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে মদ ও নারী আসক্তের অভিযোগও রয়েছে। তিনি অবৈধ উপায়ে অর্জিত টাকায় ফূর্তি ফাত্তা করেন।  সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ১৯৮৪ সালে সাতক্ষীরা জেলা প্রতিষ্ঠার পর গত ৪২ বছরে দায়িত্ব পালনকারী ৩৩ জন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ (প্রকিউরমেন্ট) মৌসুমে জেলার রাইচ মিল মালিকদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করতেন। এসব সভায় সরকারি খাদ্য গুদামে দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে চাল সরবরাহ, খাদ্যের মান নিশ্চিতকরণ এবং সংগ্রহ কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতো। কিন্তু বর্তমান জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রাইচ মিল মালিক সমিতির সঙ্গে কোনো মতবিনিময় সভা বা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে উপস্থিত হতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আমন সংগ্রহ মৌসুমে বাজারে চালের মূল্য সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি থাকায় জেলার ৮১টি রাইচ মিল সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করতে পারেনি। পরে ওই মিলগুলোর লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে সরকার ২০২৬ সালের বোরো সংগ্রহ মৌসুমে ৫৫টি মিলের লাইসেন্স পুনর্নবায়নের সুযোগ দিলেও প্রতিটি মিলের কাছ থেকে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।এছাড়া কয়েকজন মিল মালিকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইবাদুল ইসলামের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, ইসমাইল হোসেনের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রণয় কুমার পালের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা, দরগাহপুর রাইচ মিলসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে সেকশন অফিসারের মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি চাল বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রতি টনে ১০০ টাকা এবং ধান ক্রাশিংয়ের জন্য প্রতি টনে ৪০০ টাকা করে অর্থ দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাল বরাদ্দের মোট প্রায় ১৯ হাজার ৯৪ টনের বিপরীতে প্রায় ১৯ লাখ ৯ হাজার ৪০০ টাকা এবং ধান ক্রাশিংয়ের ৮ হাজার ২৫ টনের বিপরীতে প্রায় ৩২ লাখ ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে লাইসেন্স নবায়ন, চাল সরবরাহসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে বাধা সৃষ্টি এবং মিল মালিকদের হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডিদের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করা হয়েছে।সাতক্ষীরা জেলা রাইচ মিল মালিক সমিতির নেতারা বলেন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের এসব কর্মকান্ডে জেলার রাইচ মিল মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা রাইচ মিল মালিক সমিতির সদস্য মো. ইবাদুল ইসলাম, প্রণয় কুমার পাল, মো. ইসমাইল হোসেন, মো. আবিদ হাসান ও মো. আব্দুল গাফফার মোল্যা।সাতক্ষীরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) মো: ওমর ফারুকের মুঠোফোনে সোমবার বিকাল ৪.২৩ মিনিটে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি এবং স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এব্যাপারে ১নং অভিযোগকারী রাইচ মিল মালিক মো: ইবাদুল ইসলাম বলেন, মোবাইলে তো সব কথা বলা যায় না। অভিযোগ করেছিলাম কিন্তু আমাদের অনেকের সাথে তার মিটে গেছে। আমার কিছু বলার নেই।