পাইকগাছায় পাউবো কর্মকর্তার নির্দেশে কলোনির লেকের মাছ লু-ট


News Desk (s) প্রকাশের সময় : জুন ১৪, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ন /
পাইকগাছায় পাউবো কর্মকর্তার নির্দেশে কলোনির লেকের মাছ লু-ট

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন একটি সরকারি কলোনির লেক থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ আহরণ ও বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে সরকারি কোনো অনুমোদন কিংবা কার্যক্রম বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো অবগতিমূলক নোটিশ জারি করা হয়নি বিধায় কার্যক্রমটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, সংশ্লিষ্ট এক পাউবো কর্মকর্তার নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানেই সরকারি জলাশয় থেকে মাছ ধরে বিক্রি করা হয়েছে। গত ৭ জুন সকালে পাইকগাছা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলোনি সংলগ্ন লেকের মধ্যে প্রায় ৩০০ হাত লম্বা কাঁটি জাল দিয়ে মাছ ধরা হয়। কয়েক ঘণ্টার অভিযানে রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, ভেটকিসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিপুল পরিমাণ মাছ আহরণ করা হয়। পরে মাছগুলো স্থানীয় এক মাছ কাটা ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়।
সরকারি একজন কর্মকর্তা জানান, সরকারি অফিসের নিয়ন্ত্রিত লেক থেকে মাছ আহরণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের উন্মুক্ত দরপত্র, লিজ বা লিখিত অনুমোদনের তথ্য প্রকাশ্যে না আসলে তা অনিয়ম। ফলে বিক্রয়লব্ধ অর্থ কোথায় গেছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কতটা বৈধ ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। সরকারি সম্পত্তির আওতাভুক্ত কোনো জলাশয় থেকে মাছ আহরণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করা জরুরি। অন্যথায় বিষয়টি আর্থিক অনিয়ম কিংবা সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাউবোর ১৬ নম্বর পোল্ডারের শাখা কর্মকর্তা (এসও) মোতালেব হোসেনের নির্দেশনায় মাছ ধরার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না, সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোতালেব হোসেন বলেন, “ওই লেকে সরকারি অর্থে মাছ চাষ করা হয়নি। আমাদের আগের কয়েকজন সহকর্মী ব্যক্তিগতভাবে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে মাছ ছেড়েছিলেন। পরে সেই মাছ ধরা হয়েছে। এটি সরকারি রাজস্বের মাছ নয়, তাই রাজস্ব খাতে জমা দেওয়া হয়নি।”
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উনাকে জানানো হয়নি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহির মাজহার পরে কথা বলছি বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, এটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিষয়গুলো তাদের নিজস্ব প্রশাসনিক আওতাধীন। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের।
পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি কোনো বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে আমাদের কাছে লিখিতভাবে পত্র দেয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সহযোগিতা করা হয়।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা হোক। যদি সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যদিকে, কর্মকর্তার দাবি সত্য হলে সেটিও যথাযথ নথিপত্রের মাধ্যমে জনসম্মুখে তুলে ধরা প্রয়োজন। তবে পাইকগাছার এই ঘটনাটি এখন শুধু একটি লেকের মাছ আহরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সরকারি সম্পদের ব্যবহার, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।