কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সমবায় সমিতি নেপথ্যে উপজেলা সমবায় অফিসার


News Desk (S) প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৯, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ন / ০
কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সমবায় সমিতি নেপথ্যে উপজেলা সমবায় অফিসার
নিজস্ব প্রতিবেদক : শত শত কোটি টাকা নিয়ে সমবায় সমিতি লাপাত্ত হলেও এ বিষয়ে উপজেলা সমবায় অফিসার,তালা, সাতক্ষীরা মোঃ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না এমনকি ভূক্তভোগী সদস্যরা তার দপ্তরে অভিযোগ করতে গেলে বিভিন্নভাবে হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন এবং তাদের সাথে করা হচ্ছে চরম দূর্ব্যবহার। অভিযোগ উঠেছে তাহলে কি সমিতি উধাও হয়ে যাওয়ার নেপথ্যে উপজেলা সমবায় অফিসার স্বয়ং নিজে।এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে একের পর এক রহস্য।যার পেছনে রয়েছে কোটি কোটি টাকার বানিজ্য।
তালা উপজেলার উপশহরে নিবন্ধিত তালা বাজার সঞ্চয় ও ঋনদান এবং আদর্শ বহুমুখী প্রাথমিক সমিতি।উক্ত সমিতির প্রপাইটার একাই সৈয়দ বাচ্চু হোসেন।উক্ত সমিতি দ্বয়ের সদস্যরা একাধিকবার অভিযোগ করলেও এক রহস্যময় ভূমিকায় দেখা গেছে উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলামকে।সৈয়দ বাচ্চু হোসেন গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ইতিমধ্যে পাড়ি জমিয়েছেন সুদুর মালেশিয়ায়।সদস্যদের অভিযোগ প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা না নিয়ে রফিকুল ইসলাম সৈয়দ বাচ্চু হোসনকে তালা উপজেলায় চলমান প্রকল্পের মধ্যে অন্তভূক্ত করে তাকে দিয়েছেন দুই লক্ষ টাকার ঋন।
এ বিষয়ে একজন ভূক্তভোগী সদস্য জানান তিনি রফিকুল ইসলামকে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে উল্টো রফিকুল ইসলাম তাকে ধমক দিয়ে বলেছেন, আপনি টাকা দিয়েছেন তার প্রমান কি? ভূক্তভোগী ওই সদস্য বলেন যে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ  করেও সৈয়দ বাচ্চু হোসেন অধিকাংশ সময় উপজেলা সমবায় অফিসারের সাথে সময় কাটাতেন।অভিযোগ রয়েছে বাচ্চু হোসেনের বিদেশে পাড়ি জমানোর পেছনে রয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার বানিজ্য। পাটকেলঘাটা শ্রমজীবি সমিতির নির্বাহী প্রধান শেখ রহমত আলীর দীর্ঘ্যদিন ধরে গরিব মানুষের তিলে তিলে জমানো কোটি কোটি টাকা ফেরত না দিয়ে ক্ষমতা আর প্রভাব অপব্যবহার করে বিলাস বহুল জীবন যাপন করছেন।এ ঘটনার পেছনে রহস্যেও উঠে এসেছে উপজেলা সমাবায় কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলামের নাম।উক্ত সমিতি যখন দেওলিয়া হয়ে সদস্যদের ক্ষোভে ভাসছিলো তখন সমবায় কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম একক সিদ্ধান্তে উক্ত সমিতির সাধারন সদস্যদের নিয়ে বিশেষ সভা আহবান করেন এবং উক্ত সভায় তিনি এবং আরেকজন সহকারী অফিসার কে সাথে নিয়ে শ্রমজীবি সমিতির টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকারাবদ্ধ হন।
অতি সাম্প্রতি দেখা গেছে পাটকেলঘাটা শ্রমজীবি সমিতির তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি এ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।সমবায় আইনের ১৮ এর ৫ ধারায় বলা আছে নির্বাচিত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনে ব্যর্থ হলে তিন বছরের পর উক্ত কমিটি বিলুপ্ত হবে এবং সমিতির নিবন্ধক নির্বাচন ও সমিতির সাধারন কার্য পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি এ্যাডহক কমিটি তৈরী করবেন।কিন্তু পরিতাপের বিষয় সমিতির নির্বাহী শেখ রহমত আলীর প্ররোচনায় উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম অনেক টাকার বিনিময়ে বিলুপ্ত কমিটির রেজুলেশনের মাধ্যমে জেলা সমবায় অফিসার, সাতক্ষীরা এর মাধ্যমে তিন সদস্যের একটি এ্যডহক কমিটি তৈরী করেছেন যা আইননত অবৈধ।উক্ত সমিতি হতে উপজেলা সমবায় অফিসার নগদ ঋন হিসাবে ৩,০০,০০০/- লক্ষ টাকা নিয়েছেন ৫ বছর পূর্বে।
অথচ অদ্যবধি তিনি উক্ত ঋনের কোন টাকা পরিশোধ করেননি। লোক মুখে জানা যাচ্ছে যে, সমিতির নির্বাহী শেখ রহমত আলী উক্ত উপজেলা সমবায় অফিসারকে হাত করানোর জন্য ৩,০০,০০০/- তিন লক্ষ টাকা মওকূপ করিয়ে নিয়েছেন।এছাড়া অনুসন্ধানী এ প্রতিবেদক হাতে উঠে এসেছে উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম সাহেবের কোটি কোটি টাকার বানিজ্য।বড় কাশিপুর সমিতির জনাব জালাল হোসেন ইতিমধ্যে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে, শেখ সিপাতূল্ল্যাহ পাটকেলঘাটা মানব কল্যান সমিতির নামে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা এবং যথারিতী বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।
এছাড়া পাটকেলঘাটা কপোতাক্ষ কৃষি ও মৎস্য সমিতি গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আমানত নিয়ে অসহায়ের মত দিন যাপন করছেন।কপোতাক্ষ সমিতি মাঠে পাওনা ঋন আদায়ের জন্য উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলামকে বার বার অনুরোধ করলেও তিনি আমলে নেননি।জালালপুর ইউনিয়নের আইডিয়াল শ্রমজীবি সমবায় সমিতির নির্বাহী প্রধান ইন্দ্রজিৎ দাশ বাপী গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্ত হয়ে গেছেন। এসব বিষয়ে লোকমুখে জানা যায় উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম কোন ব্যবস্থা নেননি তার কারন তিনি সকল সমিতি হতে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছেন।মোঃ রফিকুল ইসলাম তালা উপজেলায় চাকরি করছেন দীর্ঘ্য ০৬ বছরের উর্দ্ধে।সরকারী নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পর পর কর্মকর্তাদের বদলির নিয়ম থাকলেও অগাধ অর্থ দিয়ে মোঃ রফিকুল ইসলাম ম্যানেজ করেছেন উপরের মহলকে।
সঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন,  তালা সমবয় অফিসার রফিকুল ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে পাটকেলঘাটা কপোতাক্ষ কৃষি সমবায়  সমিতি গ্রাহকদের হয়রানীর মূল হোতা।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে আজিজ কমপ্লেক্সে বসে
রফিকুল সাহেব সবাইকে বলেন এক বছর সময় নিতে, এক বছর পরে আমি উপস্থিত থেকে সবার টাকা দিয়ে দেবেন। কপোতাক্ষ সমবায় সঞ্চয় সমিতির থেকে ঘুষ খেয়ে সাধারণ গরিব মানুষের কথা ভুলে সমিতির অফিস ৬ মাস বন্ধ রাখার অনুমতি দেন।
 এ সকল অভিযোগের বিষয়ে মোঃ রফিকুল বলেন এর সাথে জড়িত নই, পক্ষ বিপক্ষ থাকতে পারে এক পক্ষ সুবিধা নিলে অন্য পক্ষ দোষারোপ করে। আমি তালা থেকে চলে যাওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নোটিশ করেছি।