তালা হাসপাতালে পুরাতন মালামাল বিক্রি নিয়ে ধোঁয়াশা


News Desk (S) প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৮, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ন / ০
তালা হাসপাতালে পুরাতন মালামাল বিক্রি নিয়ে ধোঁয়াশা

 খলিলুর রহমান: সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরোনো ও ব্যবহারের অনুপযোগী বিভিন্ন মালামাল গোপনে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের পুরোনো আলমারিসহ বেশ কিছু মালামাল দীর্ঘদিন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এসব মালামাল প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি বা নিলামের মাধ্যমে বিক্রির পরিবর্তে হাসপাতালের স্টোরকিপার অসিত কুমার গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন।
বিষয়টি জানতে স্টোরকিপার অসিত কুমারের সঙ্গে কথা হলে তিনি মালামাল বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন বিক্রি করা হয়েছে। তবে কীভাবে, কী প্রক্রিয়ায় হয়েছে এ বিষয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আছেন তিনি ভালোভাবে বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মালামাল বিক্রির জন্য কোনো বিজ্ঞাপন বা প্রচার দেওয়া না হলেও হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে জানানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের অব্যবহৃত মালামাল বিক্রির জন্য সমাজসেবা, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির সদস্যদের নিয়ে সভা করে মালামাল বিক্রির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
তবে বিক্রি হওয়া মালামালের সংখ্যা, ধরন ও বিক্রয়মূল্য জানতে চাইলে তিনি এ সংক্রান্ত তালিকা দিতে রাজি হননি।এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজেরা খাতুন বলেন, ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও একই ধরনের বক্তব্য দেন।ফলে মালামাল বিক্রির প্রক্রিয়া, কমিটির কার্যক্রম এবং বিক্রয়মূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে কতটি মালামাল বিক্রি হয়েছে এবং সেগুলো কত টাকায় বিক্রি করা হয়েছে—এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ না করায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে হাসপাতালের সেবা নিয়েও রোগীদের নানা অভিযোগ রয়েছে। রোগীদের অভিযোগ, অনেক সময় হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করার কথা থাকলেও  গজ, ব্যান্ডেজ ও বিভিন্ন ওষুধ যথাসময়ে পাওয়া যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে এসব কিনতে হয়।এ ছাড়া হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক অফিস চলাকালে হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন ক্লিনিক বা ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “আপনাদের কাছ থেকে অভিযোগটি শুনলাম। প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু তালা উপজেলার মানুষ নয়, আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষও চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।